ভালো নম্বর পেয়ে ভর্তি হতে সমস্যা, কলেজগুলির হিমসিম দশা

335

কলকাতা : নিউ নর্ম্যাল সময়ে ভর্তির মেধাতালিকা থেকে শুরু করে ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটা নিয়ে নাজেহাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনা আবহে উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষাগুলি বেশ কয়েকটি হতে না পারায় সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলি অন্য বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করায় বেশ কিছু বিষয়ে মেধাতালিকা তৈরি করতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কালঘাম ছুটছে। মহাঝামেলায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরাও। অধিকাংশ বিষয়ে ভালো কলেজগুলিতে প্রায় পুরো নম্বর না পেলে প্রথম মেধাতালিকায় নাম ওঠেনি তাঁদের। ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে একাধিক কলেজে ও একাধিক বিষয়ে ভর্তির আবেদন করে রেখেছেন। এর ফলে মেধাতালিকায় প্রকাশিত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ও ভর্তির সংখ্যায় আকাশপাতাল ফারাক থেকে যাচ্ছে। স্কটিশ চার্চ কলেজের কেমিস্ট্রি অনার্সের মেধাতালিকায় প্রথম ২২ জন পড়ুয়া ৪০০-য় চারশো পেয়েছেন। লেডি ব্রাবোর্ন কলেজে অঙ্কের মেধাতালিকায় সবচেয়ে নীচে স্থান পাওয়া ছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বরের হার ৯৯.০১ শতাংশ। এবছর পরীক্ষা না হওয়া বিষয়গুলিতে পড়ুয়াদের প্রাপ্ত নম্বর অন্যভাবে ঠিক করতে হয়েছে। ফলে উচ্চমাধ্যমিকের তুলনায় আইএসসিই ও সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়াদের বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীন কলেজগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদেরই রমরমা। স্কটিশ চার্চ কলেজে কেমিস্ট্রিতে ভর্তির জন্য এবছর নতুন ফর্মুলা নেওয়া হয়েছে। কেমিস্ট্রির প্রাপ্ত নম্বরকে দুই দিয়ে গুণ করে তার সঙ্গে ফিজিক্স ও অঙ্কের নম্বর যোগ করা হয়েছে। এই তিনটি বিষয়ে মধ্যে এবছর শুধু অঙ্কের পরীক্ষা হয়েছে। এর ফলে কেউ অঙ্কে ১০০ পেয়ে থাকলে তিনি ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে স্বাভাবিকভাবে ১০০ নম্বর পেয়ে গিয়েছেন। ওই কলেজে কেমিস্ট্রির মেধাতালিকায় প্রথম ৫০ জনই উচ্চমাধ্যমিকের পড়ুয়া। যিনি ৫০তম স্থান পেয়েছেন, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪০০-য় ৩৯৬।

উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে স্ট্যাটিস্টিক্সের পরীক্ষা হয়নি। যেসব পরীক্ষার্থী অঙ্কে ১০০ নম্বর পেয়েছিলেন, তাঁদের স্ট্যাটিস্টিক্সে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে। এক পড়ুয়া আইএসসি বোর্ডে অঙ্কে ৯৯, কেমিস্ট্রিতে ৯৭, ফিজিক্সে ৯৫ ও কম্পিউটার সায়েন্সে ১০০ পেয়েছেন। ওই পড়ুয়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে দুরাউন্ড ভর্তির পরেও ঠাঁই পাননি। লেডি ব্রাবোর্ন কলেজেও অঙ্কের মেধাতালিকায় সর্বনিম্ন নম্বর এত বেশি হওয়ার কারণ হল, সেখানে ভর্তির ফর্মুলায় গড় নম্বরের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকের অঙ্কের নম্বরকে দ্বিগুণ করে যোগ করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের মতো গুটিকয়েক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবশ্য ভর্তির ব্যাপারে এমন পদ্ধতি নিয়েছে, যাতে অন্যান্য বোর্ডের পড়ুয়ারাও সমান সুযোগ পান।

- Advertisement -

বেশি নম্বর পেয়ে ছাত্রছাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন। আইএসসি বোর্ডের বিজ্ঞানের ছাত্ররা বিজ্ঞান বিভাগে যথেষ্ট ভালো নম্বর পেয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না বুঝে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে বাংলায় অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেছে, মেধাতালিকা বেরোলেও ভর্তির হার কলকাতার কলেজগুলিতে এক থেকে দুই শতাংশ। ফলে কলেজগুলিকে আসন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে।