অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ হারাচ্ছে পড়ুয়ারা

97

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : বাগডোগরার একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী দিয়া সরকার (পরিবর্তিত নাম) পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী। তবে সম্প্রতি স্কুলের অনলাইন পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে তার বাবা-মা চমকে গিয়েছেন। মেধাবী মেযে এত খারাপ রেজাল্ট দেখে চিন্তায় পড়ে যান তাঁরা দুজনই। শুধু দিয়া নয়, একইরকমভাবে উদ্বিগ্ন ফুলবাড়ির একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র দেব বিশ্বাস (পরিবর্তিত নাম)-এর অভিভাবকও।

যত দিন যাচ্ছে অনলাইন এডুকেশন যেন পড়ুয়াদের কাছে বিরক্তির জায়গা হযে উঠেছে। ক্লাসে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, প্রতিযোগিতা সবই তারা উপভোগ করত। কিন্তু এখন নিজের বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে একা বসে মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়া শুনতে তাদের ইচ্ছাই করছে না। তারা অন্যমনস্ক হয়ে পড়শোনায় আগ্রহ হারিযে ফেলছে। তার প্রভাব পড়ছে রেজাল্টেও।

- Advertisement -

মণি চৌধুরী নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আগে অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ ছিল। গত ছমাস ধরে সেটা কমে গিয়েছে। খালি বলছে, স্কুল কবে খুলবে? এভাবে পড়তে ভালো লাগছে না। রেজাল্টও খারাপ হচ্ছে। মল্লিকা নাথ নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ছেলে তো খেলাধুলো করতে খুব ভালোবাসত। এখন খালি ঘুমিয়ে পড়ে। অনলাইন ক্লাসে চুপ করে বসে থাকে। খুব চিন্তায় আছি। শিলিগুড়ির একটি নামী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষাল বলেন, অনেক পড়ুয়ার বাড়িতে স্কুলের পর যে কোচিংটা দরকার সেটা ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে তাদের রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি।

সম্প্রতি এরকমই তথ্য উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞানকেন্দ্র আয়োজিত একটি আলোচনা সভায়। সেখানে পড়ুযাদের উপর কোভিড-১৯এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে পড়ুয়াদের সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। একশোর কাছাকাছি অভিভাবক সন্তানের অবসাদ কী করে কাটানো যায় তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। পাশাপাশি অভিভাবকরা বলেন, এই অবসাদ থেকেই ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার প্রতি অন্যমনস্ক হয়ে উঠছে। ফলে তাদের অনলাইন পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে। অনেক পড়ুয়া আবার দীর্ঘক্ষণ অনলাইন ক্লাসের জন্য মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ক্লাস শেষ হতেই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ছে।

উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ঋতব্রত বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি পড়ুয়াদের উপর যে মানসিকভাবে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে অনেক মেধাবী পড়ুয়ার রেজাল্ট ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। তবে, এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের যাতে বিভিন্ন রকমের অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে অবসাদ দূর করা যায় সেই চেষ্টা করছি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ নির্মল বেরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাবা-মার সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। বাড়িতে সবসময় একটি সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘসময় পড়ুয়ারা বাড়িতে থাকায় অবসাদ হওযা খুব স্বাভাবিক। বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষকে এই সময় নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।