দশহাজারি ট্যাবের ভুয়ো বিল পেতে দিতে হচ্ছে পাঁচশো টাকা

277

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : অনলাইনে পড়াশোনা চালাতে যাতে অসুবিধা না হয়, তাই দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ট্যাব কিনতে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সরকারি অনুদানের টাকায় ট্যাব না কিনে মোবাইলের দোকানগুলোতে শুধুমাত্র বিল নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। একশ্রেণির মোবাইল ব্যবসায়ী ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ভুয়ো বিল বাবদ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। মোবাইল বা ট্যাব না কিনে অনেক ছাত্রছাত্রী এই ফাঁদে পা দিয়েছে। অপরদিকে, সুযোগ বুঝে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মোবাইল বিক্রি না করে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ভুয়ো বিল প্রদানের বিষয়টি নিয়ে অল ইন্ডিয়া মোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি অমিতাভ সাহা বলেন, সরকারি অনুদানের টাকা পাওয়ার পর অনেকেই আমাদের কাছে ট্যাব বা মোবাইল না কিনে কেবলমাত্র বিলের জন্য আসছেন। সংগঠনের তরফে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মোবাইল না কিনলে কাউকেই বিল দেওয়া হবে না। মোবাইল ছাড়া বিল দেওয়া অপরাধ। কোনও ব্যবসায়ী মোবাইল ছাড়া টাকার বিনিময়ে ভুয়ো বিল দিচ্ছেন বলে আমাদের জানা নেই। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বালিকা গোলে বলেন, সরকারি অনুদানের টাকা দিয়ে মোবাইল বা ট্যাব কিনতে হবে। আগে কেউ যদি মোবাইল কিনে থাকেন সেই বিল গ্রাহ্য হবে না। টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরের তারিখের বিল জমা দিতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল বা ট্যাব কেনার যাবতীয় বিল শিক্ষা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসেই মুখ্যমন্ত্রী দ্বাদশের ছাত্রছাত্রীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা ঢুকেও গিয়েছে। স্কুলগুলোতে সরকারি নির্দেশ এসেছে মোবাইল কেনার পর ছাত্রছাত্রীদের সেই বিলের কপি জমা দিতে হবে। লকডাউনের সময় থেকে  স্কুলে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়। অনলাইনে ক্লাস করতে হলে মোবাইল ফোনের দরকার, যা সে সময় নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের অনেকের কাছেই ছিল না। ফলে অনেক অভিভাবকই ঋণ নিয়ে সন্তানদের মোবাইল কিনে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন সরকারি অনুদানের টাকা পাওয়ার পর ফের নতুন মোবাইল কেনা তাঁদের কাছে বিলাসিতামাত্র। সরকারি অনুদানের টাকা যাতে হাতছাড়া না হয় সেক্ষেত্রে মোবাইল না কিনে বিলের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন তাঁরা। অপরদিকে, মোবাইল না কিনলে বিল দিতে রাজি হচ্ছেন না প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ব্যবসায়ীরা।
মোবাইলের বিল দিতে হলে তাতে আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করতে হয়। পুরোনো মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করলে তাতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই আইএমইআই নম্বর দিয়ে দুটি পৃথক দিনের বিল তৈরি করাও অপরাধ। অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়ো বিল ছাপিয়ে এই কারবার করছেন। শহরের টোটোচালক সুশীল ঘোষ বলেন, লকডাউনের সময় অনলাইন ক্লাসের জন্য মেয়েকে একটা স্মার্টফোন কিনে দিয়েছি। এখন আবার মোবাইল কেনার টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। মেয়ে স্কুল থেকে বলেছে মোবাইলের পুরোনো বিল জমা দিলে হবে না। এক্ষেত্রে কী করব বুঝতে পারছি না। এই টাকা ব্যাংকে থাকলে মেয়ে পড়াশোনার কাজে লাগত।