টাকা জমিয়ে দুঃস্থদের সেবায় পড়ুয়ারা

127

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : বড়দের থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার বড়দের মতো করেই অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে এল ছোটরা। একেবারে কাকভোরে সবাই ঘুম থেকে উঠে, জীবনে প্রথমবার বাজারে গিয়ে শাকসবজি কিনে এনে, নিজেরাই গ্যাসে চাপিয়ে দিল ভাত, ডাল, সয়াবিন। রান্না সেরে খাবার প্যাকেট করে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। অসহায় ক্ষুধার্তদের মুখে হাসি ফুটিয়ে জীবনে কিছু একটা করতে পারার চওড়া হাসি শিলিগুড়ির শুভশ্রী, রিয়া, দীপান্বিতাদের মুখে। একসঙ্গে ২১ জন ছাত্রছাত্রীর এই উৎসাহে শামিল হয়েছিলেন তাদের বাবা-মায়েরাও।

করোনা পরিস্থিতি ও কড়া বিধিনিষেধের জেরে অনেক মানুষই আজ বিপাকে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। অনেকেই পথে বসেছেন। খাবারের আশায় প্রতিদিন রেণুবালা, রমেশ শা, কমল সরকাররা হিলকার্ট রোড, হাসপাতাল মোড়ে বসে থাকেন। প্রতিদিনই কোনও না কোনও সংস্থার পক্ষ থেকে রাস্তায় বসে থাকা রেণুবালাদের খাবার দেওয়া হয়। এদিন ছোটদের হাতে খাবার দেখে ওঁরা নিজেরাও খানিকটা অবাক।

- Advertisement -

শুভশ্রীরা প্রত্যেকেই ছাত্রছাত্রী। কেউ এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, কেউ আবার উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী। অনেকে আবার কলেজের ছাত্রী। নিজেদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে অসহায়দের পাশে দাঁড়াবার বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা করে নিয়েছিল তারা। সূর্য সেন কলেজের চতুর্থ সিমেস্টারের ছাত্রী শুভশ্রী ঘোষের কথায়, বড়দের দেখি প্রতিদিনই প্রায় বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাই আমরাও ঠিক করলাম মানুষকে খাবার দেব। আর তা দেব নিজেদের হাতে তৈরি করে। শুভশ্রীর মতো রিয়া দাসও সূর্য সেন কলেজের চতুর্থ সিমেস্টারের ছাত্রী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন শিলিগুড়ি কলেজের ছাত্রী দীপান্বিতা, শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অনিরুদ্ধরাও। এদিন সকালে রান্না করে তাঁরা খাবার বিলি করতে বের হন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে। তাঁদের দেখে খাবার নিতে এগিয়ে আসেন অনেকেই।

প্রথম দিন ১০০টি খাবারের প্যাকেটের ব্যবস্থা করেছিল তারা। নিমেষের মধ্যেই সেগুলি শেষ হয়ে গিয়েছে। তাদের কথায়, আমাদের বাড়ি থেকে যে টাকা দেয়, তা জমিয়ে কেউ ৫০ টাকা, কেউ ১০০ টাকা দিয়ে ফান্ড তৈরি করেছি। সেই ফান্ড থেকেই আমরা বাজার করেছি। তবে এটাই শেষ নয়, রিয়া, শুভশ্রীদের পরিকল্পনা হল, মাঝেমধ্যেই তারা এভাবে খাবার নিয়ে বের হবে শহরের রাস্তায়। তাদের হাতের রান্না খেয়ে মানুষের মুখে যে হাসি এদিন তারা দেখেছে, তাতে তাদের উত্সাহও আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।