বুল নমদাস, নয়ারহাট :  প্রশাসনিক ঔদাসীন্যে নানা সমস্যায় ধুঁকছে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পানিগ্রাম সাধুরডাঙ্গা এপি বিদ্যালয়।  খাবার উপযুক্ত ঘর নেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি জলাঞ্জলি দিয়ে পড়ুয়াদের মাঠে বসে মিড-ডে মিল খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষাদপ্তর ও পঞ্চায়েত সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের তরফে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মাথাভাঙ্গা ৩ নম্বর সার্কেলের অধীন স্কুলটিতে আছে শতাধিক পড়ুয়া। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা চার। কয়েক বছর আগে স্কুলে ডাইনিং শেড তৈরি হয়েছে। কিন্তু ওই শেডটি এত ছোটো যে, সব পড়ুয়া সেখানে বসার জায়গা পায় না। ফলে মাঠে বসেই মিডডে মিল খেতে হয় পড়ুয়াদের। স্কুলের মাঠে পাঁচিল না থাকায় সব সময়ই কুকুর-গোরু ঢুকে পড়ে। মিড ডে মিল খাওয়ার সময় সেগুলি পড়ুয়াদের পাশে ঘোরাফেরা করে। এর ফলে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্কুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, পড়ুয়ারা যাতে ঠিকমতো ঘেরা জায়গায় বসে খেতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হোক।

তবে এ ব্যাপারে স্কুলের সহশিক্ষক শৈলেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল খাওয়ানোর জন্য ছাউনিটি উপযুক্ত নয়। ছাউনিটি খুবই ছোটো। দরজায় গ্রিলও নেই। খাওয়ার সময় কুকুর ঢুকে পড়ে। তাই পড়ুয়াদের মাঠের মধ্যেই খাওয়াতে হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে পড়ুয়াদের খাওয়ানো কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, এই প্রশ্নের তিনি অবশ্য কোনো উত্তর দেননি। ওই সহশিক্ষক বলেন, পাঁচিল না থাকায় স্কুল চত্বরে গবাদি প্রাণী ঢুকে পড়ে। অসুবিধা হচ্ছে। পাঁচিল তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনের কাছে দরবার করা হয়েছে। এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পড়ুয়াদের স্বার্থেই স্কুলে পাঁচিল তৈরি করা দরকার। সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশও। এ ব্যাপারে মাথাভাঙ্গা ৩ নম্বর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মতিউর রহমান সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি মজিরুল হোসেনও।