নাগরাকাটা, ৭ মার্চঃ চা বাগানের পড়ুয়া সহ শ্রমিক-কর্মচারীদের টি বোর্ডের কাছ থেকে নানারকম সহায়তা পেতে গেলে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। তাও আবার সংশ্লিষ্ট বাগানগুলির অফিশিয়াল আইডি থেকে। নয়া নিয়মে বিপাকে পড়েছেন প্রত্যাশীরা। বেশিরভাগ বাগানই এ কাজে সাহায্যের হাত বাড়িযে দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ। মালিকপক্ষের বক্তব্য, আইডি হস্তান্তরিত করা সম্ভব নয়। আবার নিজেদের কাজ ছেড়ে আবেদনকারীদের কাজ করে দেওয়ার মতো লোকবল বা সময় কোনোটাই তাদের নেই।

মানবসম্পদ উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী পরিবারের পড়ুয়াদের শিক্ষাগত বৃত্তি দেওয়া হয়। যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে হস্টেলে থেকে য়দি কেউ পড়াশোনা করে সেই খরচও দিযে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেটারও সর্বোচ্চ পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে শতকরা ৬০ শতাংশ নম্বর নিযে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে নেহরু পুরস্কার। যার পরিমাণ যথাক্রমে ৮ ও ১০ হাজার টাকা। বন্ধ চা বাগানের সমস্ত পড়ুয়াকে দেওয়া হয় এককালীন ৪ হাজার টাকার বই ও ইউনিফর্ম।

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা কিডনির রোগে আক্রান্ত কোনো শ্রমিক বা কর্মচারীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শ্রমিক-কর্মচারী পরিবারের বিশেষভাবে সক্ষম সদস্যদের সহায়তাকারী নানা সরঞ্জাম দেওয়া হয়। এসব সাহায্য পেতে গেলে এতদিন অফলাইনে আবেদন করলেই চলত। তবে এখন তা অনলাইনে নিজেদের বাগানের আইডি দিয়ে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চা বাগানে শিক্ষা নিযে কাজ করা ডুয়ার্স জাগরণ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার ভিক্টর বসু বলেন, অনেক স্থান থেকেই ছাত্রছাত্রীরা আমাদের এসে জানাচ্ছে বাগানগুলি তাদের নিজস্ব আইডি দিয়ে বৃত্তির জন্য আবেদনে সহযোগিতা করছে না। একাধিক বাগানের পরিচালকদের সঙ্গে বিষয়টি নিযে কথাও বলেছি। তাঁরা এ ব্যাপারে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। আমাদের বক্তব্য, বাগানের আইডি ব্যবহার করেই আবেদন করতে হবে এরকম বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হোক। তাহলে অনলাইনেই বাইরে থেকেও আবেদন করা সম্ভব হবে।

চা মালিকদের একটি সংগঠন টি অ্যাসোসিযেন অফ ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়ে টি বোর্ডকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছি। বোর্ডের শিলিগুড়ি জোনের উপনির্দেশক রমেশ কুজুর বলেন, আবেদন সাধারণত বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাগানগুলি একটু সাহায্য করলেই আবেদন প্রত্যাশীদের আর কোনো সমস্যা থাকে না।

টি বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাইবাল এরিয়া সাব-প্ল্যানের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের যে সাহায্য করা হয় তাতে কারও বৈধ জাতিগত শংসাপত্র থাকলে সেক্ষেত্রে অফলাইনেও আবেদন নেওয়া হয়। এদিকে বিভিন্ন অর্থোডক্স চা উৎপাদনকারী বাগানগুলি টি বোর্ডের কাছ থেকে সাহায্য পেতে অফলাইনেও আবেদন করতে পারবে বলে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে টি বোর্ড জানিয়েছে। এর আগের নির্দেশে সেটা অনলাইনে ছিল।