জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতায় নামছেন মমতারা 

106

সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা : গীতা ফোগট আর ববিতা ফোগটের নাম তো নিশ্চই শোনা আছে? আরে, কুস্তিবীর যে দুই বোনের উপর আমির খানের সুপারহিট সিনেমা দঙ্গল তৈরি করা হয়েছে। বা সাক্ষী মালিক? অলিম্পিকে পদক জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগির। সাক্ষী বা গীতাদের দেখে উত্তরবঙ্গের আমরা দেশের আর পাঁচটা প্রান্তের মতো গর্বিত হলেও আমাদেরই অনেকের জানা নেই উত্তরেই সবার অলক্ষ্যে বহু সাক্ষী বেড়ে উঠছে। গজলডোবা হাইস্কুলের রিংকু শৈব্য, মাথাভাঙ্গা মহাবিদ্যালয়ের অপর্ণা বর্মন, ওদলাবাড়ির সুনীল দত্ত স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের মমতা মাঝি ও তাঁর মাসতুতো বোন মামতা মাঝি রাজ্য কুস্তিতে সোনা জিতেছেন। এই খবর আমরা কজন রাখি? ৩০-৩১ জানুয়ারি আগ্রায় ২৩তম মহিলা সিনিয়ার জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসছে। জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট রেসলিং অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রী অপর্ণারা চারজন রাজ্য থেকে এই প্রতিযোগিতায় শামিল হচ্ছেন। গোটা রাজ্যের মধ্যে অপর্ণারা ছাড়া দক্ষিণবঙ্গ থেকে দুজন এই প্রতিযোগিতায় নামবেন। মমতারা আপাতত চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতিতে প্রচণ্ড ব্যস্ত।
রিংকুরা কেউবা কৃষক পরিবারের সদস্য, কারও বাবা দিনমজুর, কারও সংসার চলে মায়ের পেনশনে। পরিবারে দাবিদ্র‌্য প্রকট। কুস্তিতে প্রোটিনযুক্ত খাবারের প্রচণ্ড প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মমতাদের কাছে পুষ্টিযুক্ত খাবার একটা সময় রীতিমতো স্বপ্নই ছিল। এই পরিস্থিতিতে আশিস স্যর তাঁদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান। জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট রেসলিং অ্যাসোসিয়েশনের কোচ তথা সাধারণ সম্পাদক আশিস শীল স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)-এর পাতিয়ালা ক্যাম্প থেকে কুস্তির কোচিং করেছেন। এখন তাঁর অধীনে গজলডোবা হাইস্কুল, রংধামালির পাচিরাম নাহাটা হাইস্কুল, ওদলাবাড়ির সুনীল দত্ত স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল, ওদলাবাড়ি আদর্শ বিদ্যাভবন হিন্দি হাইস্কুল, বাগরাকোট হাইস্কুল নিয়ে ৩০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী কুস্তির প্যাঁচপয়জার শিখছে। আশিস বলছেন, কী পরিস্থিতিতে এখানে কুস্তির অনুশীলন চালাতে হয় তা কেবলমাত্র আমরাই জানি। অনুশীলনের জন্য আমাদের নিজস্ব কোনও ঘর নেই। ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সহযোগিতায় একটি কমিউনিটি হলকে সংস্কার করে দেড় বছর ধরে আমরা এখানে প্রতিদিন অনুশীলন করি। প্রতিদিন ২৫ জনের এখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বাইরে থেকে রোজ ৫০ জন এখানে এসে অনুশীলন করে। কোচের কথায়, মমতাদের প্রত্যেকের মধ্যে প্রচণ্ড প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার জেরে ওরা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। তবুও আমরা আমাদের চেষ্টায় কোনও খামতি রাখতে চাই না।
গজলডোবা হাইস্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক বরুণ রায় বলেন, রিংকুরা খেলাধুলোর পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমানভাবে আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট মহল যদি ওদের সাহায্যে এগিয়ে আসে তবে খুবই ভালো হয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেসলিং অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সহ সভাপতি অসীমকুমার সাহা বলেন, দেশজুড়ে আরও সাক্ষী তুলে আনতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।