দিনমজুর মা-বাবাকে সাক্ষরতার পাঠ দিল পড়ুয়ারা

290

আসানসোল: সমাজ তৈরির জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে নারী শিক্ষার প্রসার হোক। শনিবার বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে আসানসোলের জামুড়িয়ায় দেখা গেল নারী শিক্ষা প্রসারের এক বিশেষ উদ্যোগ। এদিন থেকেই আদিবাসী পাড়ায় বয়স্কদের সাক্ষরতা অভিযান শুরু হল। তবে এই সাক্ষরতা অভিযান একবারে অন্যরকমের। ছোট ছোট পড়ুয়ারা তাদের মা ও বাবাদের দিলেন সাক্ষরতার পাঠ। শ্লেট, পেনশিল নিয়ে অ, আ,ক, খ শিখছেন মনি বেসরা, নীলমনি কিস্কু, দুর্গা মুর্মুরা। শনিবার বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মশত বার্ষিকীতে এমন ছবি দেখা মিলল পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি শিল্পাঞ্চল জামুড়িয়ায়।

লকডাউনের সময় জামুড়িয়ার তিলকা মাঝি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দ্বীপ নারায়ণ নায়েক উদ্যোগী হয়েছিলেন ঘরে থাকা পড়ুয়াদের পড়াতে। আদিবাসী পাড়ায় লকডাউনের বিশেষ সেই পাঠশালায় পঠন পাঠন করতে আসত পড়ুয়ারা। আর তার মা ও বাবারা এসে বসে থাকতেন দূরে খোলা আকাশের নীচে। পড়া হয়ে গেলে তারা আবার ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাড়িমুখো হতেন। তা, দেখে অনেক অভিভাবকই শিক্ষকের কাছে পড়াশুনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বাবা মায়েদের ইচ্ছাকে পূরণ করতে দ্বীপ নারায়ণ নায়েক তাদের পাঠ দেওয়ার এক অভিনব উপায় বের করলেন। নিজের বাবা মায়েদের পড়াশোনা করানোর দায়িত্ব দিলেন পড়ুয়াদেরকেই। সেই থেকে শুরু হল বয়স্কদের সাক্ষরতা অভিযান। যেখানে ছোটরা পড়াচ্ছেন। আর বড়রা পড়ছেন। একবারে উল্টো ছবি। শিক্ষক দীপ নারায়ণ নায়েক বলেন, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন থেকেই শুরু হল জামুড়িয়ার জবা গ্রাম, এবিপিট ও শিরিষডাঙার আদিবাসী পাড়ায় সাক্ষরতার এই নতুন অধ্যায়। যা শুরু করল বাড়িরই ছোট ছেলেমেয়েরা।

- Advertisement -