স্কুলে আধুনিক গ্রন্থাগার, বই পড়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে পড়ুয়াদের

329

কৌশিক দাস, লাটাগুড়ি : মোবাইল-ইন্টারনেটের আকর্ষণ কমিয়ে সিলেবাস বহির্ভূত বই পড়ায় মনোযোগী হয়েছে লাটাগুড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। নিয়ম করে সিলেবাসের বইয়ের সঙ্গে গল্পেরও বই পড়ছে তারা। কারণ, বিদ্যালয়ে বেহাল গ্রন্থাগার সংস্কার করে আধুনিক রূপ দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পড়ুয়ারা টেনিদা, ঘনাদা কিংবা ফেলুদা, ব্যোমকেশের শিহরণ জাগানো গল্পের বইয়ে স্বাদ পাচ্ছে স্কুলে।

মাল ব্লকের লাটাগুড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের একসময়ে সুনাম ছিল। দেশ-বিদেশের নামীদামি কবি-সাহিত্যিকদের রচনাতে ঠাসা ছিল গ্রন্থাগার। কিন্তু গত ১৫-২০ বছর ধরে বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। গ্রন্থাগারিক থাকলেও নামমাত্র পড়ুয়ারা বই পড়তে যেত। ইঁদুরের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল গ্রন্থারগারটি। বহু মূল্যবান বই ইঁদুরের পেটে চলে গিয়েছে। তাই, ২০১৮ সালের প্রথম দিকে গ্রন্থাগারকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক গোপাল দাস, পরিচালন সমিতির সভাপতি রতন অধিকারী সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রচেষ্টায় গ্রন্থাগারকে নবরূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। গ্রন্থাগার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বর্ষীয়ান শিক্ষিকা কেকা ঘোষের হাতে। বেহাল অবস্থা পরিবর্তন করে গ্রন্থাগারকে আধুনিকমানের গড়ে তোলা হয়।  পাশাপাশি, বই পড়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পড়ুয়াদের সচেতন করা হয়। তারপর থেকে ছাত্রছাত্রীরা নিয়ম করে গ্রন্থাগারে আসতে শুরু করে। স্কুলের প্রতিদিনকার রুটিনে গ্রন্থাগার ক্লাসকেও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেকা ঘোষ বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে পড়ুয়াদের উপযোগী অসংখ্য বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসি। প্রথমদিকে পড়ুয়াদের উপস্থিতি কম থাকলেও ধীরে ধীরে ক্লাসে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গাম্ভীর্য ত্যাগ করে বন্ধুর মতো ছাত্রছাত্রীদের মনের অন্দরের হদিস নিতে শুরু করেন তিনি। বলেন, ২০ বছর আগে এই স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করি। তারপর লাটাগুড়িবাসীর সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে ফেলেছি। আমাদের ছোটবেলার সঙ্গে কিছুতেই বর্তমান নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ছেলেমেয়েরা গল্পের বই পড়াটাই যেন ভুলে গিয়েছিল। আমি চেয়েছিলাম অন্ততপক্ষে লেখক-সাহিত্যিকদের নাম এবং বইগুলোর সঙ্গে কিছুটা পরিচিত হোক। বিরক্তির ভাব কাটিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পড়ুয়াদের বইমুখী করাটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই উদ্দেশ্যে অনেকটাই সফল হয়েছি। পড়ার বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়তে ছেলেমেয়েরা এখন নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসছে। পড়ুয়া পঙ্কজ রায়, শুভদীপ রায় বলে, আগে পড়ার বইয়ের বাইরে অনেক কিছুই জানতাম না। স্কুলের লাইব্রেরিতে নিয়মিত যাওয়ার জন্য অনেক কিছুই জানতে পারছি। বহু ভালো ভালো গল্পের বই, মনীষীদের জীবনী স্কুলের লাইব্রেরিতে আছে। সিলেবাসের বইয়ের পাশাপাশি নিয়ম করে এই বইগুলোও এখন পড়ছি। অভিভাবক মহম্মদ বাবলু বলেন, এখন ছেলেমেয়েদের প্রত্যেকেরই হাতে মোবাইল ফোন। গল্পের বইপড়া তো ভুলেই যাচ্ছে। গ্রন্থাগারে ছাত্রছাত্রীদের বইমুখী করার উদ্যোগের জন্য স্কুলকে ধন্যবাদ জানাই। পরিচালন কমিটির সভাপতি রতন অধিকারী বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের পড়ার বইয়ে বাইরের দুনিয়াটা সম্পর্কে জানাতে চেয়েছিলাম। ছাত্রছাত্রীরা গ্রন্থাগারমুখী হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। প্রধান শিক্ষক গোপাল দাস বলেন, ছাত্রছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যত্। ওদের জ্ঞানের ভাণ্ডার আরও বিস্তারিত হোক। মোবাইল, ইন্টারনেট, গেমের নেশা থেকে বেরিয়ে এসে পড়ুয়ারা গল্পের বইয়ে প্রতি আকৃষ্ট হোক।

- Advertisement -