শ্রেণিকক্ষ কম, খুদে পড়ুয়াদের বসতে হবে গাদাগাদি করে

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কোচবিহার জেলার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আলাদা শ্রেণিকক্ষ তৈরি না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে স্কুল চালু হলে গাদাগাদি করে বসতে হবে খুদে পড়ুয়াদের। প্রায় ছয় মাস আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ উদ্যোগী হলেও সেই কাজ এখনও আটকে রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, দপ্তরের সাব-ইনস্পেকটররা জেলায় রিপোর্ট না পাঠানোয় কাজ আর এগোয়নি। এরপর লকডাউন পর্ব শুরু হয়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন কল্যাণী পোদ্দার বলেন, জেলায় ৫৫৩টি প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি শুরু করা হয়েছে। সেখানে লকডাউনের আগে ক্লাস হয়েছে। এই স্কুলগুলিতে কী পরিকাঠামো রয়েছে, কোথায় ঘর লাগবে, তার জন্য জানুয়ারি মাসে এসআইদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলাম। তাঁরা রিপোর্ট দিলে তা রাজ্যে পাঠিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হত। কিন্তু লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সেই কাজ আর হয়নি। শ্রেণিকক্ষ কম থাকার বিষয়টি তিনি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস। তাই তাদের ক্লাস নিয়ে কোনও সমস্যা হতে দেওয়া য়াবে না। অন্য ক্লাসের পড়ুয়াদের প্রয়োজনে একসঙ্গে বসানো হচ্ছে। তবে জেলায় ৪৫৩টি স্কুলে শ্রেণিকক্ষ তৈরি হচ্ছে। এইসব স্কুলের অনেকগুলিতে পঞ্চম শ্রেণি চালু হওয়ায় সমস্যা হবে না।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলায় ১৮৫৩টি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। তারমধ্যে ৫৫৩টি স্কুলে চলতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি চালুর নির্দেশ রাজ্য শিক্ষা দপ্তর দিয়েছিল। সেই মোতাবেক চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে জেলার ৫৫৩টি প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণি চালু হলেও অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের ঘর ছাড়তে অন্য ক্লাসের পড়ুয়াদের একসঙ্গে বসাতে হয়েছে। জেলায় প্রাথমিকে পড়ুয়া রয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজারের কিছু বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, এসআইদের জানুয়ারি মাসে রিপোর্ট চাওয়া হলেও তাঁরা তা দিতে পারেননি কেন? লকডাউন শুরু হয়েছে মার্চের শেষদিকে। তার আগে কেন রিপোর্ট জমা পড়েনি? এখন স্কুল খোলা না থাকলেও তা চালু হলে তখন কী হবে? করোনার সতর্কতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে খুদে পড়ুয়াদের বসানো হবে?

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কর্তারা বলছেন, তখন সব ক্লাস চালু করতে কিন্তু সমস্যা হবে। বছরের অর্ধেক তো শেষ। রিপোর্ট জমা হওয়ার পর তা রাজ্যে পাঠিয়ে বরাদ্দ নিয়ে আসতে হবে। এরপর ঘর তৈরি করতে আরও সময় লাগবে। সবমিলিয়ে এবছর আর পরিকাঠামো উন্নয়ন কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ফলে খুদে পড়ুয়াদের কতটা সুরক্ষিতভাবে স্কুলে বসানো যাবে, তা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।