সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : স্কুলভবন রয়েছে। মিড-ডে মিলের জন্য পৃথক ঘরও রয়েছে। কিন্তু সেই ঘরে কোনো বারান্দা বা ঢোকার সিঁড়ি নেই। ফলে ঘরে প্রবেশ করতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে কুশমণ্ডি নিউ সেটআপ বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মিড-ডে মিল খেতে হয় খোলা মাঠে। অনেক সময় গবাদিপশু ঢুকে পড়ে স্কুলের সীমানায়। মানুষ-পশুর এমন সহাবস্থান দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনো হেলদোল নেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের। শুধু তাই নয়, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর দশ বছর কেটে গেলেও স্কুলে এখনও কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা এনিয়ে বহুবার অভিযোগ জানালেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন কুশমণ্ডির বিডিও।

কুশমণ্ডি বাজারে একটিমাত্র কো-এড হাইস্কুল থাকার ফলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের পড়তে যেতে হত গ্রামের বিদ্যালয়গুলিতে। গ্রামের স্কুলগুলিতে ছেলেরা গেলেও মেয়েদের পক্ষে যাওয়া অসুবিধা হয়ে দাঁড়াত। সেই সমস্যার কথা ভেবেই ২০১০ সালে কুশমণ্ডি নিউ সেটআপ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। কুশমণ্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে বালিকাদের জন্য প্রথম অবস্থায় স্কুল শুরু হয়। পরবর্তীতে স্কুলশিক্ষা দপ্তর তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি হয় নতুন ভবন। গত এক বছর ধরে ওই বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা দপ্তর থেকে কোনো স্থায়ী শিক্ষক দেওয়া হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাই অতিথি শিক্ষক হিসাবে স্কুল চালাচ্ছেন। সদ্য অবসর নিয়েছেন ওই স্কুলের টিআইসি সইফুর রহমান। তিনি বলেন, স্থাযী শিক্ষক না আসায় এখন ছাত্রী সংখ্যা কমছে।  প্রতিবছর শিক্ষা দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় স্থায়ী শিক্ষক দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। শিক্ষকের অভাবে অভিভাবকরা মেয়েদের স্কুলে ভরতি করতে চান না। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সংখ্যা গত বছর ছিল ১৮০ জন। এই বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে।

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, মিড-ডে মিলের জন্য ঘর তৈরি হলেও সেই ঘরে যাওয়ার জন্য কোনো বারান্দা নেই। লাফ দিয়ে ঘর থেকে ওঠানামা করতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ছাত্রীরা মিড-ডে মিলের ঘরে খাবার খায় না। তারা স্কুলের মাঠে ঘাসের ওপর বসে খাবার খায়। স্কুলের সীমানা প্রাচীর তৈরি হলেও কোনো গেট এখনও করা হয়নি। ফলে উন্মুক্ত প্রবেশপথ দিয়ে গোরু- ছাগলের মতো গবাদিপশু স্কুলে ঢুকে পড়ে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পল্লবী সরকার বলে, পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুনে আসছি স্থায়ী শিক্ষক আসবেন। আগামী বছর অন্য স্কুলে যেতে হবে। কিন্তু স্থায়ী শিক্ষক আমরা পেলাম না। অভিভাবক পরেশ সরকার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা খারাপ পড়ান এমন বলা যাবে না । কিন্তু স্থায়ী শিক্ষক এলে আরও ভালো হত। অবিলম্বে শিক্ষা দপ্তর স্থায়ী শিক্ষক না পাঠালে জুনিয়ার বালিকা বিদ্যালয়ে আগামীতে কোনো অভিভাবক তার মেয়েদের ভরতি করবে না।

কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুনন্দা বিশ্বাস বলেন, আমি প্রতি বছর জেলা শিক্ষা দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। স্থায়ী শিক্ষক কেন আসছে না তার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। কুশমণ্ডির অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সাফিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষা দপ্তর এই বছর স্থায়ী শিক্ষক পাঠাবে বলে জেনেছি। তবে কবে নাগাদ সেই শিক্ষক আসবেন, তা জানা নেই। এ প্রসঙ্গে কুশমণ্ডির বিডিও শৈপা লামা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ওই স্কুলে যাতে স্থাযী শিক্ষক পাঠানো হয়, তার জন্য শিক্ষা দপ্তরে লিখিতভাবে জানাব। মিড-ডে মিলের বারান্দা তৈরির বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখব।