প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হলেও বই না মেলায় বিপাকে পড়ুয়ারা

296

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হলেও জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ এই পড়ুয়াদের বেশির ভাগের পাঠ্যবইয়ের সমস্যা মেটাতে পারেনি। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর প্রায় দু’মাস পেরিয়ে গেলেও এই স্কুলগুলির অনেকগুলিতে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠ্যবই পৌঁছোয়নি। বেশ কিছু স্কুলে নতুনের পাশাপাশি পুরোনো পাঠ্যবই দিয়ে কাজ চালানোর জেরেও সমস্যা বাড়ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল প্রশ্ন তুলেছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। পঞ্চম শ্রেণিতে কত ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে, কত বই দেওয়া হয়েছে, এ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য শিক্ষা দপ্তর জানতে চেয়েছে। স্কুলগুলির কাছ থেকে সেই তথ্য নিয়ে জেলাস্তর থেকে উপর মহলে পাঠানো হবে।

বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা বলেন, আমরা প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি চালুর পক্ষে। কিন্তু তার আগে পরিকাঠামো, শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করেই তা চালুর পক্ষে মত দিয়েছিলাম। তবে তার আগেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থাটি চালু করতে গিয়ে এই পরিস্থিতি। ফলে জেলার ৪২৬টি প্রাথমিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির প্রায় চার-পাঁচহাজার ছাত্রছাত্রীর অধিকাংশই বই নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। তণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তরফে স্বপনকুমার বসাক বলেন, প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক নিয়ে য়ে সমস্যা চলছে তা যাতে দ্রুত মেটানো যায় সে বিষয়ে সংগঠনের তরফে দ্রুত শিক্ষা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর সূত্রে খবর, জেলায় ৪২৬টি প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, জেলায় কোন কোন প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হবে তা নির্দিষ্ট করার আগেই পঞ্চম শ্রেণি থাকা জেলার হাইস্কুলগুলিতে বই দেওয়া হয়েছে। ফলে যে সব প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হল সেগুলির অধিকাংশেই বই নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিছু স্কুলে পুরোনোর পাশাপাশি নতুন সংস্করণের বই দেওয়া হয়েছে। ফলে সিলেবাস নিয়ে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারা পর্যন্ত সমস্যায় পড়ছেন।

জলপাইগুড়ি সদর ওয়েস্টের ভুসাপাড়া প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত ভৌমিক বলেন, আমার স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ২৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সমস্ত বিষয়ে নতুন পাঠ্যবই পাওয়া যায়নি। পুরোনা সংস্করণের কিছু বই দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সিলেবাসের সঙ্গে কিছুটা অমিল রয়েছে। যে কারণে পঠনপাঠনে কিছু সমস্যা হচ্ছে। যেহেতু অভিভাবকরা আমাদের কথা মতো সন্তানদের হাইস্কুলের পরিবর্তে প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেছেন তাই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দুমাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সমস্ত বই না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। ফোদরপাড়া বোর্ড ফি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পার্থ কর বলেন, পঞ্চম শ্রেণির কিছু বিষয়ে নতুন সিলেবাস করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে নতুন-পুরোনো বই মিলিয়ে দেওয়ার কারণে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে আরও সমস্যা তৈরি হয়েছে। যে সব ছাত্রছাত্রী নতুন বই পায়নি তাদের সমস্যা হচ্ছে।