পুতুল, রান্নাবাটি খেলে সময় কাটছে বস্তির পড়ুয়াদের

246

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : স্কুল নেই তাই খেলে, ঘুরেই সময় কাটছে বস্তির ছেলেমেয়েদের। কখনও রাস্তায় জড়ো হয়ে রান্নাবাটি, পুতুল, লুডো খেলছে আবার কখনও রাস্তার আশপাশে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারণ অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ তাদের নেই। সেজন্য বাড়িতে পাঠ্যবই দেখা, পড়াশোনা করার পর সারাদিন কাটছে খেলাধুলোর মধ্য দিয়ে। তবে বস্তিতে বেশিরভাগ অভিভাবকই বাচ্চাদের পড়াশোনার এই ঘাটতি নিয়ে খুব একটা সচেতন নয়। লকডাউনের জন্য দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সব থেকে বেশি পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বস্তির পড়ুয়ারা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরাও উদ্বিগ্ন। তবে বস্তির বেশিরভাগ পড়ুয়ার বাবা-মা হাজিরা অনুযায়ী মজুরি পান। এখন কাজ না থাকায় তাঁদের ঠিকমতো খাবারও জুটছে না। তাই বাচ্চাদের পড়াশোনা কীভাবে চলবে তা নিয়ে কোনও ভাবনাও নেই তাঁদের।

বস্তির শিশুদের বেশিরভাগই পড়াশোনা হয় স্কুলে। বিভিন্ন স্কুল কর্তপক্ষ জানিয়েছে, স্কুল বন্ধ হওয়ার পর থেকে ওই পড়ুয়াদের অভিভাবকরা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কারণ তাঁদের অনেকেই এ বিষয়ে সচেতন নন। রাজেন্দ্রনগরের কুলিপাড়ার বাসিন্দা মমতা রায় বলেন, আমাদের কাজ নেই। খাওয়া জুটছে না ঠিকমতো। আমরা বাচ্চাদের পড়াশোনার ব্যাপারে কী করে ভাবব? বাড়িতে বই দেখে যা পড়ছে তাই অনেক। বস্তির অনেক বাচ্চাই পাঠ্যবই দেখেই পড়াশোনা করছে। বস্তির শিশুদের নিয়ে কাজ করেন সীমা শা। তিনি বলেন, লকডাউনের জন্য স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের পড়াশোনার অবস্থা খুব খারাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের প্রথম প্রজন্ম শিক্ষালাভ করছে। তাই বাবা-মা বাড়িতে পড়তে বসাতে পারছেন না। টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা বিনোদ পাসোয়ান বলেন, আমি রংমিস্ত্রির কাজ করি। বাচ্চারা স্কুলে যা পড়ে তা বাড়িতে এসে আবার পড়ে। কিন্তু এখন স্কুল বন্ধ। তাই যেটুকু পারছে সেটুকুই পড়ছে।

- Advertisement -