মিড-ডে মিলে অনীহা, ফাস্ট ফুডের দিকে ঝোঁক পড়ুয়াদের

240

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : সরকারের তরফে ছাত্রছাত্রীদের মিড-ডে মিলের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছে। অথচ মাল ব্লকের অনেক স্কুলেই পড়ুয়াদের একটা বড় অংশের মধ্যে মিড-ডে মিল খাওয়া নিয়ে অনীহা রয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই মিড-ডে মিল খাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এবং মিড-ডে মিলের গুণমান ভালো না হওয়ায় তারা বাইরের খাবারের প্রতি ঝুঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরা টিফিনের সময় ফাস্ট ফুডের দিকে বেশি ঝুঁকছে। মশলাযুক্ত খাবার খেয়ে অনেকসময়ই পেটের রোগ ডেকে আনছে তারা।

মাল ব্লকের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বেশিরভাগ স্কুলেই পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল খাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কখনও খোলা আকাশের নীচে, আবার কখনও বারান্দায় বসেই মিড-ডে মিল খেতে বাধ্য হয় পড়ুয়ারা। সে কারণে অনেক পড়ুয়াই মিড-ডে মিল খেতে স্বচ্ছন্দ নয়। শুধু তাই নয়, মিড-ডে মিলের গুণগতমান নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বাড়িতে যে ধরনের রান্না করা খাবার খেয়ে পড়ুয়ারা অভ্যস্ত, সেরকম খাবার তারা স্কুলে পাচ্ছে না।

- Advertisement -

ছাত্রছাত্রীরা জানাল, মাঝেমধ্যেই তারা দেখতে পায়, তরকারিতে লবণ কিংবা ঝাল বেশি দেওয়া হয়েছে। চাল সেদ্ধ কম হয়েছে। এর ফলে তারা মিড-ডে মিল খাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছে। কেউ কেউ মিড-ডে মিল তৈরি ও বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে। আবার মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরা সংকোচের কারণে মিড-ডে মিল খেতে চাইছে না। পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল না খাবার একটা বড় কারণ, অভিভাবকরা পড়ুয়াদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা মিড-ডে মিল খাওয়ার তুলনায় চটকদার মশলাযুক্ত খাবার খেতে বেশি পছন্দ করছে।

স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যার তুলনায় মিড-ডে মিল খাওয়া ছাত্রছাত্রীরা যে সংখ্যায় কম-তা মেনে নিচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও। ক্রান্তি দেবীঝোরা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মকসুদ আলম বলেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আমাদের স্কুলে ১০-১৫ শতাংশ পড়ুয়া মিড-ডে মিল খায় না। রাজাডাঙ্গা পেন্দা মহম্মদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ শর্মা বলেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের স্কুলে প্রায় ১৮০০ পড়ুয়া আছে। এর মধ্যে কিছু পড়ুয়া মিড-ডে মিল খায় না। তবে লাটাগুড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা লিপিকা সুকুল বলেন, ছাত্রীদের মিড-ডে মিল দেওয়ার আগে শিক্ষিকারা খাবার যাচাই করে নেন। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই মিড-ডে মিল পরিবেশন করি। বেশিরভাগ পড়ুয়াই মিড-ডে মিল খায়। আমরা বাইরের খাবার না খাওয়ার ব্যাপারে ছাত্রীদের সতর্কও করি।

মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, স্কুলে মিড-ডে মিল সফলভাবেই চলছে। মিড-ডে মিলের চালও আগের তুলনায় অনেক ভালো দেওয়া হচ্ছে। আমরা রান্নার মান উন্নত করার জন্য রাঁধুনিদের প্রশিক্ষণও দিয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপরও নজর দিতে বলেছি। তবে ১০-১৫ শতাংশ পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল না খাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।