সিমেস্টার নষ্ট হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি ছাত্রের

231

বর্ধমান: কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ। ছাত্রটি প্রতিবাদে সরব হতেই তাকে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তার হুমকি দেবার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার চন্দ্রপুর কলেজের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিহিত চেয়ে চন্দ্রপুর কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ইংরাজি অনার্সের ছাত্র প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমনকি ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু, কোনও সুরাহার ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। যা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়েছে কাটোয়ার চন্দ্রপুর কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অবিভাবক মহলে।

ছাত্রটির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের পিপলন পঞ্চায়েতের করন্দা গ্রামে। সে জানিয়েছে, করোনা অতিমারির মধ্যেই তাঁদের কলেজে বিএ ইংরাজি অনার্সের দ্বিতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা হয় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে। পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার জন্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে ওই বছরের ১০ নভেম্বর কাটোয়ার চন্দ্রপুর কলেজে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ হয়। সহপাঠীদের সঙ্গে ওইদিন সেও কলেজে গিয়ে সমস্ত নিয়ম মেনে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করে। এরপর ২৩ ডিসেম্বর সহপাঠীদের সবার অ্যাডমিট কার্ড এলেও শুধুমাত্র তাঁর অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায় তাঁর ফর্ম ফিলাপটাই নাকি হয়নি। সেই কারণে অ্যাডমিট কার্ডও আসেনি। এমনটা শুনে মাথায় হাত পড়ে যায় ছাত্রটির।

- Advertisement -

ছাত্রটি আরও জানান, সে যে প্রকৃতই পরীক্ষা দিয়ে, ফর্ম ফিলাপও করেছে। সেই সংক্ষান্ত সমস্ত নথিপত্রও তাঁর কাছে আছে। যাতে কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলমোহর পর্যন্ত দেওয়া রয়েছে। এই বিষয়টি সে লিখিত ভাবে কলেজের প্রিন্সিপাল কার্তিকচন্দ্র সামন্তকে জানায়। তিনি সেই আবেদন পত্রের সঙ্গে চিঠি যুক্ত করে তাকেই পরীক্ষা নিয়ামকের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। চিঠিতে অধ্যক্ষ লেখেন ‘আবেদনকারী ছাত্র ফর্ম ফিলাপের দিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কলেজে উপস্থিত না হতে পারার কারণে ফর্ম ফিলাপ করতে পারেনি। সেই কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

কন্ট্রোলারের সেক্রেটারি ওই পড়ুয়াকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এইসব বিষয়ে কথা বলতে প্রিন্সিপালকে আসতে হবে। কিন্তু প্রিন্সিপালকে জানালেও তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ। এরপরই দিদিকে বলোতে ফোন করে অভিযোগ করেন ওই ছাত্র। সে জানায় এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার যে রেজাল্ট বের করেছে তাতে তাঁর নাম নেই। শুধুমাত্র কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য তাঁর একটা ‘সিমেস্টার’ নষ্ট হল। তাঁকে ব্যাক ক্যানডিডেট হিসাবে গন্য করা হবে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি তুলে ধরে সে। তার অভিযোগ, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্ট প্রত্যাহার করে না নিলে পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রিন্সিপাল তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন।’

যদিও ছাত্রটির অভিযোগ মানতে চাননি চন্দ্রপুর কলেজের প্রিন্সিপাল কার্তিক চন্দ্র সামন্ত। তিনির বলেন, ‘নির্দিষ্ট দিনে অনলাইনে ওই পড়ুয়া ফর্ম ফিলাপ করেনি বলে আমি কলেজের স্টাফদের কাছ থেকে জেনেছি।’ তবে ফর্ম ফিলাপের জন্য ধার্য টাকা যে ছাত্রটি জমা দিয়েছিল তা প্রিন্সিপাল এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল ফল্টের কারণেও উদ্ভুত সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে ছাত্রের ভবিষ্যৎতের কথা ভেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করছেন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে একটু সময় লাগবে। পুলিশকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রিন্সিপাল জানান, আত্মহত্যা করতে হবে বলে ছাত্রটি সোশ্যাল মিডিয়া যা লিখেছে তাঁর প্রতিবাদেই তিনি একথা বলেন। প্রকাশ্যে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়া বেআইনি বলেও তিনি জানান। তবে ছাত্রের বাবা ও সহপাঠীরা অবশ্য দাবি করেছেন, প্রিন্সিপাল গাফিলতির দায় এড়াতে দুরকম কথাবার্তা বলছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সঠিক কারণ না জেনে তাঁরা এই বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্যে যাবেন না।