জলপাইগুড়ি : অভাবের তাড়নায় ডুয়ার্সের বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা দিনমজুরের কাজে নেমেছে। তাদের সঙ্গে নবম শ্রেণির ছাত্রীরাও দিনমজুরির কাজ করছে। দেবপাড়া চা বাগানের প্রেমনগর শ্রমিক লাইনের দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বিন্নাগুড়ি চৌপথিতে জাতীয় সড়কের পাশে রাস্তার কালভার্ট তৈরির কাজ করতে দেখা গিয়েছে। তারা দিনে ২৩০ টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করছে।

এদের মধ্যে একজন স্থানীয় কালকা পরিমল হিন্দি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ে। তার বাবা চা বাগানের শ্রমিক। বড় দুই বোনের বিয়ে পরে মা আর এক ছোট বোনকে নিয়ে অভাবের সংসার। অন্যজন স্থানীয় আদর্শ বিদ্যামন্দির হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র। সে তার ঠাকুমাকে নিয়ে থাকে। ঠাকুমার গ্র‌্যাচুইটির টাকায় সংসার চালাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা তার। কিন্তু নিজে কাজ না করলে সংসারের সঙ্গে নিজের পড়াশোনা লাটে উঠবে। তাই দিনমজুরির কাজ শুরু করেছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত টানা দুই-তিন মাস দিনমজুরের কাজ করে সে উপার্জন করবে বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বানারহাট উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির আর এক ছাত্রীকেও দেখা গেল এই দুই ছাত্রের সঙ্গে রাস্তায় দিনমজুরের কাজ করতে। তারও সংসারে অভাব অনটন রয়েছে। এই ছাত্রীর বাড়িও দেবপাড়া চা বাগানে। শুধু তারা নয়, তাদের মতো বহু পড়ুয়া রাস্তায় দিনমজুরির কাজ করছে। অভাবের কারণে প্রায় সারা বছর তারা দিনমজুরের কাজ করতে বাধ্য হয় বলে তাদের দাবি। বয়স কম হওয়ায় দিনমজুর ছাড়া বিকল্প কাজে যোগদান করতে পারে না। দিনমজুরির কাজ ছাড়ালে তাদের সংসারে টান পড়বে বলে সকলেই জানায়।

- Advertisement -

দিনকয়ে আগে বানারহাটের দেবপাড়া চা বাগানে মালিকপক্ষ সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ইশ্যু করে বাগান ছেড়ে চলে য়ায়। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় ১,১৭৬ জন শ্রমিক। সেই সব শ্রমিক পরিবারের ছেলেমেয়েরা ডুয়ার্সের চালসা থেকে বিন্নাগুড়ির কাছে তেলিপাড়া পর্যন্ত ৪০ কিমি এলাকাজুড়ে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে হাত লাগিয়েছে। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ির যুগ্ম শ্রম কমিশনার পার্থ বিশ্বাস বলেন, চা বাগানের অনেকই নদীতে পাথর ভাঙার কাজ করে উপার্জন করে। আমরা অনেককেই শিশুশ্রমিক বলে কাজ ছাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও বিকল্প কাজ সব সময় দিতে পারিনি। তবে চেষ্টা করছি। বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করেই এদের শিশুশ্রমিকের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। তা না হলে এরা কেই আমাদের কথা শুনবে না। জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। ধূপগুড়ির বিডিও এবং শ্রম দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।