করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষা

557

মালবাজার: করোনা সংক্রামিত রোগীদের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার বিশ্ববাংলা কোভিড হাসপাতালে ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চলছে। শনিবার দুপুরে মাল পুরসভার সভাকক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান উত্তরবঙ্গের করোনা নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ডের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায়। এদিন বৈঠকে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের পাশাপাশি মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার মাল পুরসভার সভাকক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের বৈঠকটি হয়। বৈঠকে ডাঃ সুশান্ত রায় ছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রমেন্দ্রনাথ প্রামানিক, জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ-২ ডাঃ মৃদুল ঘোষ, মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ সুরজিৎ সেন, মাল মহকুমার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তারক বর্মন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক হয়। এরপর পৃথকভাবে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়েও বৈঠক হয়েছে।

- Advertisement -

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা: সুশান্ত রায় বলেন, উত্তরবঙ্গে ৯০% করোনা রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। জলপাইগুড়ি জেলার ক্ষেত্রে ৮৭ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। উত্তরবঙ্গে অবস্থায় রোগীর মৃত্যুর হার মাত্র দশমিক ০.৮৭ শতাংশ। বর্তমানে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১১ শতাংশের মত। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের মধ্যে জলপাইগুড়িতে করোনা রোগীদের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষার কাজ চলছে। ইনফেকশিয়াস স্প্রেডিং ক্যাপাসিটি নিয়ে সমীক্ষা হচ্ছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে। ৭৩ রকমের করোনাভাইরাস শের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। মৃত ভাইরাস থাকলেও করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তাই সমীক্ষার কাজে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সুশান্তবাবু আরও বলেন, রোগীদের সাইট্রাল থ্রেশহোল্ড ভ্যালু নির্ধারণ করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল) থেকে আসা রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেলার নিজস্ব মলিকিউলার বায়োলজিস্ট এ সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করছেন। এই মাত্রা (ভ্যালু) কুড়ির (২০) কম হলে সেই রোগীদের জলপাইগুড়ি বিশ্ববাংলা কোভিড হাসপাতালে একেবারেই পৃথকভাবে রাখা হচ্ছে। কাউকেই তাঁদের কাছাকাছি আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কুড়ির বেশি মাত্রায় থাকা রোগীদের মধ্যে যাদের উপসর্গ আছে তাঁদের কোভিড হাসপাতালেই রাখা হচ্ছে। আর কুড়ির উপরে থাকা উপসর্গহীন রোগীদের সেফ হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মালবাজার হাসপাতাল প্রসঙ্গে সুশান্তবাবু বলেন, মালবাজার হাসপাতালে প্রথমেই আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখানকার চিকিৎসকেরা টিম হিসেবে কাজ করছেন। মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাশাপাশি নাগরাকাটা সুলকাপাড়ার হাসপাতালেও ট্রুনাট মেশিন বসানো হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রামিতদের শনাক্ত করে তাদের আইসোলেশনে থাকার ব্যবস্থাতে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই করোনা পরীক্ষার জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। সেফ হোম কিংবা হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীরা সুস্থ হলে নিয়মানুসারে তাঁদের শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দারা অসচেতনতার জন্য বাধা তৈরি করছেন, তা করা উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত।

সুশান্তবাবু জানান, মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে সফরের পূর্বে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। সমস্ত তথ্য তৈরি করে রাখা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রমেন্দ্রনাথ প্রামানিক বলেন, আমরা মালবাজারের হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। এখানে করোনা মোকাবিলার কাজ ভালোভাবেই হচ্ছে। এদিন জেলায় দুটি রাউন্ডে ব্লক এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়া হয়। এক রাউন্ডে ২৭ অগাস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহের করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ধূপগুড়ি, মাল এবং নাগরাকাটা ব্লক যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান পায়।

এদিকে শনিবার মালবাজারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৪৩ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। ৮ জনের দেহে করোনা সংক্রমণের হদিস মিলেছে। এর মধ্যে দুজন মাল শহরের বাসিন্দা। একজন মাল শহরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৬২ বছর বয়সী মহিলা, অন্যজন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিন বছর বয়সী শিশু। এছাড়া মাল ব্লকের ডামডিমের ৫৬ বছর বয়সী পুরুষ, ক্রান্তির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী, বড়দিঘির ৪৫ বছর বয়সী মহিলা, তেসিমলার ৪৩ বছর বয়সী পুরুষ এবং বানারহাট এলাকার গেন্দ্রাপাড়া চা-বাগানে ৫৭ বছর বয়সী পুরুষ এবং কারবালা চা-বাগানের ৪৯ বছর বয়সী পুরুষ ব্যক্তিও আছেন।