হরষিত সিংহ, মালদা : মূলত শিশু এবং বয়স্কদের মনোরঞ্জনের জন্যই মালদা শহরের বুকে তৈরি হয়েছিল শুভঙ্কর শিশু উদ্যান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যত হয়ে ওঠে প্রেমের আখড়া। তবে শুধু প্রেম নয়, সন্ধে নামলেই ভরা পার্কের মধ্যে অশ্লীল কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে যুগলরা। আর তাতেই শিশুদের পার্কে নিয়ে যেতে রীতিমতো দ্বিধাবোধ করছেন অভিভাবকরা। অধিকাংশ শহরবাসীই জানাচ্ছেন, এই ঘটনা এক-দুদিনের নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা হয়ে আসছে মালদা শহরের এই পার্কটিতে। তবে এই পরিস্থিতি যে শুধু শুভঙ্কর শিশু উদ্যানের একচেটিয়া বিষয়, তা নয়। বরং সন্ধ্যা নামলেই শহরের শুভঙ্কর বাঁধ থেকে শুরু করে বৃন্দাবনী ময়দানের গ্যালারি, ফ্লাইওভার এমনকি দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুতেও কিছু প্রেমিক যুগলের অশ্লীলতার দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন শহরের জনতা। বাধ্য হয়ে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন বাঁধের সান্ধ্যকালীন ভ্রমণ। বন্ধ করে দিয়েছেন বৃন্দাবনী ময়দানের গ্যালারিতে বসে আড্ডা মারাও। পুলিশের পক্ষে জানানো হয়েছে, মাঝেমধ্যেই ওই এলাকাগুলিতে নজরদারি চালানো হয়। কিন্তু শহরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পুলিশের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মূলত পুলিশ হানা দেওয়ার এক থেকে দুইদিন স্বাভাবিক থাকছে পার্ক থেকে বাঁধের পরিস্থিতি। কিন্তু দিন কয়েক যাওয়ার পরই ফের আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে গোটা এলাকা। শুভঙ্কর শিশু উদ্যানের পরিবেশ শিশুদের খেলার যোগ্য এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর উপযুক্ত করে তোলার আবেদন জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। এমনকি উদ্যানে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোরও দাবি তুলেছেন অনেকে। তবে পার্কের এক কর্তা শুভেন্দুনারায়ণ চৌধুরি জানান, আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমাদের পার্কের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা কেউ শোনে না। বারবার বারণ করলেও সে কথা কেউ কানে তোলে না।

পার্কে ঘুরতে আসা এক শিশুর অভিভাবক তপন সাহা জানান, ভেতরে ঝোপের আড়ালে আলো-আঁধারি জায়গা পেলেই বসে পড়ছে যুগলরা। এমনকি পার্কে বসার জায়গাগুলিও দখল করে রাখছে প্রেমিক যুগলের দল। তবে শুধু গল্পগুজব নয়, সুযোগ বুঝে চলছে অশ্লীল কার্যকলাপও। শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে শহরের মাধবনগর এলাকার বাঁধেও। পুরসভার পক্ষ থেকে মহানন্দার ওপর এই এলাকার বাঁধটির সৌন্দর্যায়ন করা হয় যাতে মানুষ সন্ধ্যায় হাঁটতে কিংবা সময় কাটাতে আসতে পারেন। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই চলছে নেশা-জুয়ার আসর, মহিলাদের প্রতি কটূক্তিও। ফলে রাত বাড়লে ওই এলাকায় যেতে কার্যত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।