মুরতুজ আলম, সামসী : নতুন সাব-মার্সিবল বসানোর এক মাসের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের খিজিরিয়া বাংরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে স্কুলের পড়ুয়ারা আর্সেনিকযুক্ত জল পান করছে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে পেটের অসুখে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। অনেক অভিভাবকই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না।

খিজিরিয়া বাংরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জয়দেব দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবেদনের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে বরাদ্দ করা প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ করে ৬ মাস আগে পানীয় জলাধার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সেই জলাধার বিকল হয়ে পড়ে। সমস্যার কথা বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এক মাস স্কুল ছুটি থাকার কারণে ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়নি। স্থানীয় নেতাদের জানানো হলেও শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। তাই শিশুরা স্কুলের মধ্যে থাকা মাত্র ২০০ ফুট গভীর পাইপ বসানো আর্সেনিকযুক্ত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে অনেক শিশু পেটের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। পার্শ্বশিক্ষক মোহাম্মদ নরেশ বলেন, অভিভাবকদের নিয়ে একটি মিটিং করে জলের সমস্যার কথা জানিয়েছি। তাঁরা যেন নিয়মিত শিশুদের স্কুলে পাঠান, সেই আবেদনও করা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক অভিভাবকের কাছে আবেদন করা হয়েছে, তাঁরা শিশুদের বাড়ি থেকেই যাতে পরিস্রুত পানীয় জল দিয়ে পাঠান।

- Advertisement -

শুধু এই স্কুলেই নয়, মহেন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের বাংরুয়া এবং ভবানীপুর গ্রামে বেশ কয়েকটি সাব-মার্সিবল পাম্প অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে গ্রামের বাসিন্দারাও চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বাংরুয়া ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সাব-মার্সিবল পাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় ওই স্কুলেও পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। আশপাশে কোথাও পিএইচই জল প্রকল্প না থাকায় এলাকার বাসিন্দারাও সেই সাব-মার্সিবল থেকেই পানীয় জল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেটি অকেজো হয়ে পড়ায় স্কুলের পড়ুয়া সহ স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার মুখে পড়েছেন। বাংরুয়া ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা নন্দিনী দাস বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাব-মার্সিবল পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পঞ্চায়েত প্রধান ও বিডিওকে  জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র প্রশাসনিক অবহেলার জন্যই সরকারি প্রচুর টাকার সম্পত্তি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল হক সহ আরও অনেকে বলেন, বাংরুয়া ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১টি ও খিজিরিয়া বাংরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১টি ছাড়াও বাংরুয়া গ্রামে আরো দুটি ও ভবানীপুর নিজামিয়া মাদ্রাসায় ১টি করে সাব-মার্সিবল পাম্প চালু হওয়ার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে থাকা এই সাব-মার্সিবল পাম্পগুলি সচল করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ করা হয়নি। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু বলেন, অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সাব-মার্সিবল পাম্পগুলির অভিযোগ পেয়েছি। শীঘ্রই সেগুলি সারানোর ব্যবস্থা করা হবে।