ভগবানের হাত যশ, ধানের জমিতে মাছ চাষে মিলল সাফল্য

108

পারডুবি: প্রতিযোগিতার বাজারে একমুখী কেন্দ্রীক কৃষি ব্যবস্থার থেকে বহুমুখী তথা মিশ্র কৃষি ব্যবস্থা কৃষকদের পক্ষে অধিক লাভজনক। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিশ্র চাষ করে নজর কেরেছেন মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারডুবির কানিপাড়া এলাকার ভগবান বর্মন।

তিনি বলেন, ‘নিজের আমন ধানের চাষের জমিতে মাছের চারাপোনা ২০ কেজি ছেড়েছিলেন। ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ কেজি বিক্রি করেছেন। শুক্রবার ফের নিজের চাষের জমি থেকে প্রায় ৪০ কেজি মাছ ধরেছেন বিক্রি করার জন্য। ধানের থেকে মাছ চাষেই অধিক লাভ এসেছে। ধান চাষের পাশাপাশি একই জমিতে মাছ চাষ করে বাড়তি লাভ হয়েছে। প্রায় বিঘা খানেক জমিতে এই মিশ্র চাষ করেছেন। এধরনের চাষে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ফসল বিক্রি করে কৃষকরা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

- Advertisement -

ব্লক কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আমন ও বোরো মরশুমে মিশ্র চাষ হিসেবে ধানের সঙ্গে মাছ চাষ করা যায়। বছরে এই চাষ দুবার সম্ভব। বিশেষত নীচু বা মাঝারি বা দোলা জমিগুলিতে এধরনের চাষের পক্ষে সহায়ক। জমির যেদিকে জল বের হয় তার আল বরাবর তিন ফুট চওড়া ও তিন ফুট গভীরে একটি খাল খনন করে খালের নীচে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে জল নীচে যেতে না পারে। এরপর খালের উপরে মাচা তৈরি করে লতানো সবজি হিসেবে শীত লাউ, কুমরো, করলা চাষও করতে পারেন চাষিরা। মূল জমি চাষের পর জৈব সার হিসেবে গোবর সার কেঁচো সার ও কিছুটা রাসায়নিক যুক্ত সার ব্যবহার করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে বেশি ভালো। ধানের চারা লাগানোর ১০ থেকে ২০ দিন পর তেলাপিয়া রুই কাতলা সহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ৫০০ ছাড়তে হবে। ধানের পাতার রং দেখে সার ব্যবহার করতে হবে বা জমিতে পোকার আক্রমণ বেশি হলে জল কমিয়ে কীটনাশক দিতে হবে। যাতে মাছগুলো নির্দিষ্ট গর্তে চলে আসে সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা ড. মলয়কুমার মণ্ডল বলেন, ‘মিশ্র চাষ করে একই সঙ্গে দুটি ফসল ধান ও মাছ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ধানের পোকামাকড় মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় সুতরাং অতিরিক্ত মাছের খাদ্যের প্রয়োজন হয়না, তবে কিছু খাবার প্রয়োগ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এজন্য শুরুতেই চালের গুঁড়ো ভুট্টার দানার গুঁড়ো ১:৩ অনুপাতে মিশিয়ে বল আকারে হেক্টরপ্রতি ১০ কেজি করে সাতদিন অন্তর অন্তর দিতে হবে। মাসখানেক পর খৈল ভুষি কুড়া ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে একদিন পরপর দিতে হবে। ধানখেতে মাছ চলাচল করলে ধানের আগাছা কম হবে সেক্ষেত্রে কৃষকদের আগাছা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেকটা রেহাই মিলবে মাছের নড়াচড়াতে। এছাড়াও মাছের নড়াচড়াতে ধানের দ্রুত বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয় সেক্ষেত্রে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়।’

প্রান্তিক কৃষক ভগবান বর্মন জানান, অল্প জমিতে একসঙ্গে চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ার পক্ষে মিশ্র চাষ একটি অভিনব উদ্যোগ। খুব কম সময়ে একই সঙ্গে বহুমুখী ফসল পাওয়া যায় কম খরচে ও কম পরিমাণ জমিতে। তাঁর এই কাজে খুশি ও অনুপ্রেরণা পেয়ে এবং পরামর্শ নিয়ে গ্রামের বেশকিছু প্রান্তিক কৃষকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এধরনের মিশ্র চাষ শুরু করেছেন।