মাঠে কাজ করেও সাফল্য যমজ বোনের

মুরতুজ আলম, সামসী : সংসার চলে মাঠে ধান কেটে, নিড়ানি করে। তবুও মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে যমজ বোন। সলেহা খাতুন ও জান্নাতুন ফিরদৌসরা একসঙ্গে এবার উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন ভালো নম্বর নিয়ে। সলেহা পেয়েছেন ৪৬২ এবং জান্নাতুন পেয়েছেন ৪৫০ নম্বর। দুই বোন মাধ্যমিকেও প্রথম বিভাগে পাশ করেছিলেন। তাঁদের এই ফলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও খুশি। নয়াটোলা মহানন্দপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুনজুর আলম জানিয়েছেন, দুই বোনকে সবরকম সাহায্য করা হবে। তাঁদের আরও সাফল্যকামনা করেছেন তিনি।

সলেহাদের বাড়ি চাঁচল-১ ব্লকের মকদমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌরিয়া গ্রামে। বাবা সলেমান আলি পেশায় দিনমজুর। মা রোশনারা বিবিও দিনমজুরের কাজ করেন। তাঁরা এবছর নয়াটোলা মহানন্দপুর হাই মাদ্রাসা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। তাঁদের ফলাফলে গ্রামবাসীরা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ খুশি হলেও যমজ বোনের পরিবারে ঠিক উলটো চিত্র। দুই মেয়েকে কলেজে কী করে ভরতি করবে, তার দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সলেমান আলির। তিনি জানিয়েছেন, মাঠে মাত্র দশকাঠা চাষের জমি রয়েছে। এদিকে ভিটেবাড়ি রয়েছে মাত্র দুই শতক। তার ওপর বাড়িটাও মাটির দেওয়ালে টিনের ছাওনি। মাত্র একখানা শোবার ঘর। সেই ঘরেই সকলের বাস। সলেমানের তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে পাঁচজনের সংসার। তাই সংসার চালাতে তাঁদের দিনমজুরি করতে হয়। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে স্ত্রী রোশনারাও দিনমজুর করেন। তিন মেয়ে মধ্যে বড় মেয়ে বিউটি বেগমের বিয়ে হয়ে গিয়েছে কয়েক বছর আগে।

- Advertisement -

সলেহা ও জান্নাতুন জানান, তাঁদের ইচ্ছে নার্স হয়ে দুঃস্থদের সেবা করবেন। কিন্তু নার্সিং ট্রেনিংয়ের জন্য অত টাকা তাঁদের নেই। তাই চাঁচল কলেজে পড়তে চান। সলেহা ভূগোল এবং জান্নাতুন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চান। দুই বোনই ভেবেছেন তাঁরা ভবিষ্যতে শিক্ষক হবেন। কিন্তু কলেজে ভরতির টাকা জুটছে না। এখন কী করবে ভেবে কূল পাচ্ছেন না দুই বোনই। মা রোশনারা বিবি বলেন, দুই মেয়ে আরও ফল ভালো করতে পারত। কিন্তু ওরা পড়াশোনা করার সময় পায়নি। আমরা মাঠে ধান কাটতে গেলে দুই মেয়ে আমাদের সঙ্গে যেত। এছাড়াও ধান, পাট নিড়ানিও করত। টাকার অভাবে মেয়েদের প্রাইভেট টিউশনও দিতে পারিনি। তাই দুই বোনের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য খুবই দরকার। কোনও সামাজিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তি পাশে না দাঁড়ালে ওদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের পথে।