ঘর সাজাতে বাড়ছে সাকিউলেন্টের চল

102

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি :  ঘর সাজানোর জন্য ভারী পাতার আদর্শ গাছ হল সাকিউলেন্ট। অনেকদিন থেকেই এই মরু-পাহাড়ের গাছ শৌখিন গাছপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে যাঁরা গাছ দিয়ে বাড়ি সাজাতে ভালোবাসেন তাঁদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকছে এই গাছ। গাছপ্রেমী গৌতম বৈদ্য বলেন, এখন সবার বাড়িতেই জায়গা কম। পাশাপাশি ব্যস্ত জীবন। তাই এই গাছগুলো একদিকে যেমন সাধ্যের মধ্যে অন্যদিকে দেখতেও সুন্দর। দামও কম, আবার পরিচর্যাও তেমন করতে হয় না। তিনি বলছিলেন, বাড়িতে গাছ রাখা মানেই যে তার পরিচর্যার বিশাল ঝক্কি তা নয়। অল্প যত্নেই সুন্দর বেড়ে ওঠে এই গাছগুলো। পাতার নানা বিচিত্র আকার ও অপূর্ব বিন্যাসের জন্য অল্প সময়ে মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়তার জন্য শহরেও এই সাকিউলেন্ট গাছের চাষ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ও নানান রংয়ের হয়ে থাকে এই গাছগুলো। শিলিগুড়ির গাছ ব্যবসায়ী রাজ ছেত্রী জানান, খোলাচাঁদ ফাঁপড়িতে আমার নার্সারি রয়েছে। সেখানে সাকিউলেন্ট গাছের চাষ করা হয়। প্রায় একশো রকমের গাছ রয়েছে এখানে। অল্প সময়ে মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই গাছগুলো। শহর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি ভিনরাজ্যেও আমরা এই গাছ পাঠিয়ে থাকি।

- Advertisement -

মনের মতো বাড়ি সাজানোর ইচ্ছে সবারই থাকে। বাড়ি সাজিয়ে তোলার জন্য গাছের জুড়ি মেলা ভার। ইচ্ছে থাকলেও  নিয়মিত জল ও পরিচর্যার ঝক্কির জন্য অনেকে গাছের নাম শুনলেই ভয় পেয়ে যান। এই ধরনের ভয় যাঁদের মনে রয়েছে এই গাছ তাঁদের জন্য আদর্শ। কারণ বেশি জল এই গাছের শত্রু। সাধারণ ভেজা মাটি সাকিউলেন্ট গাছের জন্য আদর্শ। আবার নিয়মিত পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। সাকিউলেন্ট গাছের পাতা, কাণ্ড বা মূলে অসময়ে জন্য জল সঞ্চয় করে রাখা থাকে। মূলত এই গাছের কতগুলো পাতা একসঙ্গে মিলে একটি ফুলের আকার ধারণ করে। লাল, বেগুনি, গোলাপি রংয়ের ছোঁয়া থাকে এই গাছগুলোতে। মেক্সিকান স্নোবল, ডঙ্কিজ টেল সহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির সাকিউলেন্ট গাছ দেখা যায়।  ঘরে যে কোনও জায়গায় টবে রেখে দিলেই সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে এগুলো। মিরিক, কালিম্পংয়ে বিপুল পরিমাণে চাষ শুরু হয়েছে এই গাছের। মিরিকের ফুল ব্যবসায়ী মোহন রাই জানান, সাকিউলেন্ট গাছ দেখতে যেমন সুন্দর, পাশাপাশি তার যত্নও সেভাবে করতে হয় না। ফলে সহজেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছোট গাছ সত্তর থেকে আশি টাকায় পেয়ে যাবেন। এই গাছ এখন বাজারে হটকেক।