উত্তর-পূর্বে হঠাৎ অতিসক্রিয় জঙ্গিরা

140

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : উত্তর-পূর্বে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দেশবিরোধী শক্তি। সেনা গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একাধিক এলাকায় বড়সড়ো নাশকতার ছক কষছে তারা। মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচলপ্রদেশ- এই চার রাজ্যে হঠাৎ করেই অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। রাজ্যগুলিকে ঘাঁটি করে চলতে থাকা সুপারি, সোনা, পোশাক, বিদেশি সিগারেট, ইয়াবা সহ নানা পাচার কারবারের নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যেই নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী।

শুধু অগাস্ট মাসেই চার রাজ্য থেকে ২৭ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে অসম রাইফেলস। তাদের মধ্যে ১০ জনই মোস্ট ওয়ান্টেড। গত এক মাসে চার রাজ্যে ২৫টিরও বেশি গোপন অভিযান চালান অসম রাইফেলসের জওয়ানরা। ১৮টি অভিযান থেকেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এমন অনেক সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মাসে চার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসম রাইফেলসের জওয়ানরা ১৯ কোটি ৪২ লক্ষ ২৩ হাজার টাকার চোরাই সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছেন। গ্রেপ্তার হয়েছে বেশ কয়েকজন জঙ্গি। দীর্ঘদিন বাদে ফের সক্রিয় হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম পুরোনো জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ মণিপুর (ইউএনএলএফ)। সংগঠনের চার নেতা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বের হয়ে ফের কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে। আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে আসা এবং হঠাৎ করে জঙ্গি সক্রিয়তা বৃদ্ধির মধ্যে কোনও সংযোগ আছে কি না, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন সেনা গোয়েন্দারা।

- Advertisement -

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সিকিউরিটি মিট শুরু করেছেন অসম রাইফেলস ও সেনাকর্তারা। স্থানীয় পুলিশ ও বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গি দমনে স্পেশাল অপারেশন করতে উদ্যোগী হয়েছেন তাঁরা।

সেনার তথ্য বলছে, ইদানীং মণিপুরেই জঙ্গি সক্রিয়তা সব থেকে বেশি। অগাস্টে শুধু মণিপুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ জন সক্রিয় জঙ্গিকে। নাগাল্যান্ড থেকে ১১ জন এবং অরুণাচলপ্রদেশ থেকে ২ জনকে ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ইউএনএলএফ ছাড়াও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড (এনএসসিএন), তাদের সহযোগী পিপলস লিবারেশন আর্মি অফ মণিপুর (পিএলএ), কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি) এবং পিপলস রেভলিউশনারি পার্টি অফ কাংলেইপাক (প্রিপাক)-এর একাধিক জঙ্গি নেতা ও সদস্য আছে।

৪ অগাস্ট অরুণাচলের টিরাপ থেকে আফিম পাচারের সময় এনএসসিএন (খাপলাং) গোষ্ঠীর এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে অসম রাইফেলস। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই চোরাকারবারে একের পর এক জঙ্গিযোগের সন্ধান মেলে। একাধিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তে নাশকতার উদ্দেশ্যেই বিস্ফোরক আনা হয়েছিল বলেই সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। জঙ্গি সহ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ধরাও পড়ছে।

অসম রাইফেলস ও সেনা গোয়েন্দাদের একটা অংশ মনে করছে, বড় কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর সহযোগিতাতেই উত্তর-পূর্বে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। সহযোগিতার পেছনে হাক্কানি নেটওয়ার্কের হাত রয়েছে কি না, সেটাই এখন চিন্তা বাড়াচ্ছে গোয়েন্দাদের। এক গোয়েন্দা কর্তার মত, ইউএনএলএফের মতো পুরোনো সংগঠন সক্রিয় হওয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগের। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবেই পাচারের রুট ও কারবারের দখল নিচ্ছে জঙ্গিরা। এটা বড় কোনও পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই করা হতে পারে।