সংক্রামিতদের বাড়ি ছুটছেন সবজি বিক্রেতা সুদীপ

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : দিনে-রাতে যখনই ডাক আসছে, পিপিই কিট পরে ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। করোনা সংক্রমণ রুখতে সংক্রামিতদের বাড়ি স্যানিটাইজ করছেন সুদীপ ঘোষ। সংক্রমণের ভয় না পেয়ে ইতিমধ্যেই সশরীরে ৭০টির বেশি সংক্রামিতের বাড়ি স্যানিটাইজ করেছেন তিনি। এভাবেই শহরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে, তিনি কোনও স্বাস্থ্যকর্মী নন। এই কাজে নেমেছেন শিলিগুড়ির চম্পাসারির গনেশ ঘোষ কলোনীর বসিন্দা সুদীপ, পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। নিজের সবজির দোকান সামলে দুমাস ধরে এই লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। সুদীপের এই পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরবাসী। তাঁর বাবা বর্তমানে সবজির দোকান চালিয়ে তাঁকে সাহায্য করছেন। সুদীপের এই কাজের প্রশংসা করে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলির চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, সুদীপের এই কাজের জন্য আমি তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এটা সত্যি, বাকীদের অনুপ্ররণা যোগাবে। ভবিষ্যতে তাঁর কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে এবং আমাদের জানালে আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াব।

করোনা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। শহরজুড়ে এখনও প্রতিদিন অনেকেই এই ভাইরাসে সংক্রামিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই অনেক মানুষই নানাভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবার আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। কিন্তু সংক্রামিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্যানিটাইজ করার কথা শুনলেই অনেকেই ভয়ে গুটিয়ে যান। অথচ স্বাস্থ্যকর্মী না হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্যানিটাইজেশনের কাজ করে চলছেন সুদীপ। করোনা পরিস্থিতিতে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। করোনা সংক্রামিত হয়ে মারা গিয়েছেন অথবা সংক্রামিত হয়েছেন এরকম খবর পেয়ে পিপিই কিট পরে এবং স্যানিটাইজেশনের স্প্রে মেশিন নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে যাচ্ছেন সুদীপ। প্রতিদিন অন্তত তিনটি বাড়ি স্যানিটাইজ করছেন সুদীপ। কঠিন এই সময়ে করোনার আতঙ্ককে ভয় না পেয়ে এই কাজ করে যারপরনাই খুশি সুদীপ।

- Advertisement -

ছোটবেলা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছের জোরেই এই কাজকে বেছে নিয়েছেন সুদীপ। ইউনিক ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। সুদীপবাবু বলেন, এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমি খুবই খুশি। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনে আতঙ্ক অনেক বেড়ে গিয়েছে। এমনকি করোনায় সংক্রামিত হলে সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। তাই এই পরিস্থিতিতে স্যানিটাইজেশনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি এই কাজকেই বেছে নিয়েছি। তবে, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই কাজ করছি। আমার বাড়িতেও বয়স্ক বাবা-মা রয়েছেন। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমি প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি।