পরপর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রায়গঞ্জে

61

রায়গঞ্জ: পরপর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রায়গঞ্জে। গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে রায়গঞ্জ থানার বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের পারধায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসলে মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যু হয়। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম বুধীন বাস্কে(৩০)। মৃতার স্বামী নির্মল হেমব্রম বলেন, ‘কি কারণে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে আমার স্ত্রী তা বুঝে উঠতে পারছি না।’ রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ক্যান্সারের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক বৃদ্ধ। এদিন সকালে ৭০ বছরের বৃদ্ধকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করলে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর মৃত্যু হয়। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃতের নাম শাহাবুদ্দিন শেখ(৭০), বাড়ি করণদিঘি থানার দোমোহনা গ্রামে। গলার টিউমার থেকে ক্যান্সার ধরা পড়ে বছর দেড়েক আগে। পুলিশের অনুমান, সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

- Advertisement -

অন্যদিকে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হল এক বধূ। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নসরৎপুর এলাকায়। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এদিন বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম লেখিজান বেগম ওরফে সাবিনা (২৫)। কি কারণে ওই বধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা তদন্ত করছে পুলিশ। রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, বিয়ের তিন মাসের মাথায় গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বধূ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় ওই বধূর। এদিন ইটাহার থানার দুর্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবন পুর এলাকার ঘটনাটি ঘটেছে। এদিন সকালে বাড়ি থেকে কেউ না থাকার সুবাদে ওই বধূ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ওই বধুর চিৎকারে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম সুস্মিতা কর্মকার(১৯)। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে ইটাহার থানার দুর্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবনপুরের বাসিন্দা সুবল কর্মকারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। স্বামী পেশায় বাজনা বাদক ও কলের মিস্ত্রি। বিয়ের দশদিন কাটতে না কাটতেই স্বামীর সঙ্গে চরম অশান্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত স্বামীর সংসার ছেড়ে রায়গঞ্জ থানার সুভাসগঞ্জে বাবার বাড়িতে চলে আসে। দিন কয়েক আগে মেয়েকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসে। এদিন সকালে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তবে কি কারণে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করল তা জানা নেই স্বামী সুবল কর্মকারের। যদিও ওই গৃহবধূর বাবা সঞ্জীব কর্মকারের দাবি প্রায় লক্ষাধিক টাকা পণ দিয়ে মাস তিনেক আগে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের পর থেকেই আরও টাকার জন্য মেয়েকে চাপ সৃষ্টি করত। মাঝেমধ্যে মারধর পর্যন্ত করত। তাই মেয়ে স্বামীকে ছেড়ে বাড়িতে আসতে বাধ্য হয়। রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, এখনও মেয়ের পরিবারের তরফ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ করলে ঘটনার তদন্ত করা হবে।