পরকীয়ায় বিচ্ছেদ, প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী প্রেমিক

361

বর্ধমান ১১ ফেব্রুয়ারিঃ পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করায় প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী হল প্রেমিক। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে ঘিরে  ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। মৃতদের নাম পম্পা রায় (৩৭) ও জয়ন্ত সিং (২৭)।  ভাতারের আমারুন ২ পঞ্চায়েতের ছাতনী গ্রামে শ্বশুর বাড়ি পম্পার। তারই প্রেমিক জয়ন্তর  বাড়ি পাশের গ্রাম খেরুরে। এদিন  সকালে  শ্বশুর বাড়ির অদূরে  থাকা একটি পুকুরের জল থেকে হাত বাঁধা অবস্থায়  উদ্ধার হয় পম্পার মৃতদেহ। কিছুক্ষণের মধ্যে খেরুর গ্রামের বাড়ির একটি ঘরথেকে উদ্ধার হয় জয়ন্তর  ঝুলন্ত মৃতদেহ। খবর পেয়ে  ভাতার থানার পুলিশ দুই গ্রামে পৌঁছে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই দুটি মৃতদেহ পাঠানো হয়  বর্ধমান হাসপাতাল মর্গে। এদিন বিকাল পর্যন্ত দুই পরিবারের কেউ থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। এই পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর  মামলা রুজু করে  ভাতার থানার পুলিশ দুটি মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।
পম্পা রায়ের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় তাপসী রায় জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১১ টার পর থেকে হঠাৎই পম্পা বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে যায় । এদিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে  পম্পার মৃতদেহ  ভেসে ওঠে। মৃতদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায় পম্পার দুটি  হাত বাঁধা রয়েছে। তাঁর মুখের অংশে ছিল ফাটা  দাগ। মৃতদেহের এই অবস্থা দেখে তাপসীদেবী দাবি করেন পাশের খেরুর গ্রামের যুবক জয়ন্তই খুন করেছে পম্পাকে। পরে সে নিজে আত্মঘাতী  হয়েছে। পরিবারের দাবি ছয় মাস আগে পম্পা তার প্রেমিক জয়ন্তর সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করে। এরপর নিজের ভুল বুঝতে পেরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করে পম্পা আবার স্বামী তপন রায়ের ঘরে চলে আসে। কিন্তু বিষয়টি জয়ন্ত মেনে নিতে পারেনি। সেকারণেই সে কোনো অছিলায় সোমবার রাতে পম্পাকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করে পুকুরের জলে ফেলে দিয়েছে। এরপর পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে জয়ন্ত সিং নিজে আত্মঘাতী হবার পথ বেছে নিয়েছে।
অন্যদিকে একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন জয়ন্ত সিংয়ের মা মঙ্গলা সিং ও বাবা গনেশ সিং। মঙ্গলা সিং বলেন, এক মহিলার সঙ্গে তাঁর ছেলের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাঁকে নিয়ে ছেলে দু মাস অন্যত্র থাকতে শুরু করে। ওই মহিলা পরে জয়ন্তকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর  জয়ন্ত বাড়ি ফিরে মনমরা হয়ে থাকত। আজ সকালে ঘরে ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাই’।