লকডাউনে কাজ হারিয়ে আত্মঘাতী দিনমজুর, চাঞ্চল্য এলাকায়

243

ফাঁসিদেওয়া, ৪ মেঃ লকডাউনে প্রচুর মানুষ কাজ হারিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য সংকট ছাড়াও দিনমজুর পরিবারগুলিতে নানান অনটন শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে র‍্যাশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বন্টন করা হলেও, সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সেই কারণে অবসাদগ্রস্থ হয়ে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। এবারে এক দিনমজুর শ্রমিক আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার ফাঁসিদেওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হেরাগছ দোসীমনা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত বিমল মুন্ডা (২৯) পেশায় শ্রমিক ছিলেন। এদিকে ২ সন্তানকে নিয়ে সংসার কিভাবে চলবে, তা নিয়ে স্ত্রী মনীষা মুন্ডা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লকডাউনের মাঝে কাজ হারানোয় মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে, গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজের ঘরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

পেশায় দিনমজুর বিমল মুন্ডা মূলত শ্রমিকের কাজ করতেন৷ কাজ না থাকলে ট্রাক্টর চালানোর কাজও করতেন। বাড়িতে ৭ বছরের ছেলে, ৪ বছর বয়সী মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে আর্থিক টানাপোড়েন ঘোঁচাতে মনীষা বাড়ির পাশের একটি বটলিফ চা বাগানে সম্প্রতি চা পাতার তোলার কাজে যোগ দেয়। এরপর সংসার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরলেও, লকডাউনে ফের আর্থিক অভাব অনটন শুরু হয়ে গিয়েছিল। উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানোর চিন্তায় বিমল মাসখানেক ধরে মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। এরপর এদিন নিজেকে সামাল দিতে না পেয়ে, তিনি আত্মঘাতী হয়েছে বলে স্ত্রী মনীষা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সংসারে লকডাউনের কারণে খাদ্যাভাব চলছিল। উল্লেখ্য, ৩০ এপ্রিল ফাঁসিদেওয়ার দেমধাখাড়ির বাসিন্দা পেশায় কৃষক নিতাই বিশ্বাস (২৬) লকডাউনে ফসল বিক্রি করতে না পেরে, ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিলিগুড়ি মহকুমায় আত্মহত্যার একের পর এক ঘটনা অভিজ্ঞ মহলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

- Advertisement -

এমতাবস্থায় ২ সন্তানকে নিয়ে সংসার কিভাবে চলবে তা নিয়ে পারিবারিক দুঃশ্চিন্তা শুরু হয়েছে। বিমলের কিছু আর্থিক ঋণ ছিল বলেও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। সমস্যাগ্রস্থ ওই পরিবারের তরফে সরকারি সাহায্যের দাবি করেছেন বিমলের স্ত্রী মনীষা মুন্ডা। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা যোজনার কার্ড কিংবা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় সাহায্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই ঘটনার কারণ স্পষ্ট হয়ে যাবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।