মোবাইল ফোনের জন্য আত্মঘাতী ছাত্রী

1057

বর্ধমান: বাবা-মা মোবাইল কেনার টাকা দিতে না পারায় অভিমানে আত্মঘাতী হল নবম শ্রেণীর ছাত্রী। মৃতার নাম পম্পা মালিক(১৪)। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার ফকিরপুর গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে রায়নার সেহারাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে রায়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পম্পা মালিক সেহারাবাজার রাধারানী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাঁর পরিবার আর্থিক ভাবে দুর্বল। ছাত্রীর বাবা পিরুপদ মালিক ক্ষেতমজুরির কাজ করেন। বেশকিছুদিন ধরে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কিনেদেওয়ার কথা পম্পা তার বাবা-মাকে বলে আসছিল। টাকা পয়সা জোগাড় করে পরে ফোন কিনেদেবেন বলে পম্পাকে বলেছিলেন পিরুপদবাবু। তা সত্ত্বেও এদিন সকালে একই ভাবে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার কথা পম্পা তাঁর বাবা মাকে বলে। তারজন্য পম্পাকে বকাবকি করে তাঁর বাবা। এরপর বেলা ১০টা নাগাদ ছাত্রীর মা গবাদি পশুর জন্য মাঠে ঘাস কাটতে চলে যায়। ক্ষেতমজুরির কাজে বেরিয়ে যায় বাবা। দুপুরে তারা বাড়ি ফেরেন। গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ দে বলেন, বাবা-মা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই অভিমানে আত্মঘাতী হয় ছাত্রী।

- Advertisement -

ছাত্রীর বাবা মা বলেন, সামান্য একটা মোবাইল ফোনের জন্য মেয়ে যে এইভাবে নিজের জীবনটাই শেষ করে দেবে তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেন নি। রাধারানী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সর্বাণী মুখোপাধ্যায় জানান, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। মোবাইল ফোনের জন্য ছাত্রী শম্পা এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটালো শুনে সত্যি অবাক লাগছে।’