ঘরে ঢুকতে চেয়ে সৌমিত্রকে চিঠি সুজাতার

254
ফাইল ছবি।

কলকাতা: ২০ ডিসেম্বর সকলকে চমকে দিয়ে তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে কুণাল ঘোষের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল। তাঁর যোগ দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পরই সাংবাদিক ডেকে সল্টলেকের বাড়ি থেকে সৌমিত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিলেন, তৃণমূল আমার ঘরের লক্ষ্মীকেও চুরি করল। পরের দিনই তিনি সুজাতাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।

তারপর ১ মাসেরও বেশি সময় সুজাতা ওই চিঠির কোনও জবাব দেননি। রবিবার তিনি আবেগঘন একটি চিঠি সৌমিত্রকে পাঠিয়েছেন। যার প্রতিটি ছত্রে ছত্রে স্বামীকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁদের ভালোবাসার কথা। তিনি লিখেছেন, বিজেপির কারণেই আজ তিনি ঘরছাড়া। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, সল্টলেকের বাড়িতে আমার অনেক জিনিস রয়েছে। আমাদের বিয়ে অ্যালবাম, আমার কিছু মূল্যবান জিনিস ওই বাড়িতে রয়ে গিয়েছে। তুমি যেহেতু ওই বাড়িতে আমাকে ঢুকতে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছ, তাই আমি অনুরোধ করছি, সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ আমাকে একটিবার ঘরে ঢুকতে দিও। আমি আমার জিনিসগুলো নিয়ে চলে আসব। চিঠির শেষ লাইনে লেখেন, আমি তোমাকে আরও একবার বলছি সৌমিত্র, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের সম্পর্ক, বন্ডিংটার কথা ভাব। শেষে সুজাতা নিজের ভালবাসার কথাও অকপটে জানিয়েছেন চিঠিতে।

- Advertisement -

গত ১ মাসে তৃণমূলের বহু কর্মসূচিতে সুজাতা হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সৌমিত্রকে নিয়ে সেভাবে মুখ খোলেননি। এমনকি সৌমিত্রের সঙ্গে পরামর্শ করেও তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরও সরাসরি দেননি। বরং বলেছেন, কে বলতে পারে সৌমিত্র আগামী দিনে তৃণমূলে আর যোগ দেবে না? কিন্তু রবিবারের চিঠিতে তিনি যেভাবে সৌমিত্রর প্রতি আবেগ উসকে দিয়েছেন, তা নিয়ে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সৌমিত্র এদিন সাংবাদিকদের ফোনও ধরেননি, তাঁদের সঙ্গে দেখাও করতে চাননি। চিঠিতে সুজাতা লিখেছেন, আমার হৃদয়টা হাজার টুকরোয় ভেঙেছে। আমি যতটা না দুঃখ পেয়েছি, তার থেকেও অনেক বেশি স্তম্ভিত। কীভাবে তুমি আমাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠাতে পারলে? আমি তো কোনওদিন তোমায় ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলিনি। আমি দুঃস্বপ্নেও তা ভাবতে পারি না।

সুজাতা তাঁর চিঠিতে সৌমিত্রকে আশ্বস্ত করে যা লিখেছেন তাতে সামান্য কটাক্ষের ছোঁয়াও আছে, আমি তোমাকে শুধু এইটুকু বলি, আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি বলে তোমাকে কেউ বিজেপি ছাড়তে বলবে না। তুমি বলেছিলে, তৃণমূল নাকি তোমার ঘরের লক্ষ্মীকে চুরি করেছে। তারপর তুমি ডিভোর্সের নোটিশ পাঠালে। যদি সত্যিই ঘরের লক্ষ্মী মনে করতে, তবে কী পারতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে? আর যদি তা মনে না কর, তাহলে তো তুমি যা অভিনয় করেছ, নিঃসন্দেহে দারুণ।