বাচ্চু কি এখনও দলে আছেন, জানেন না সুকান্ত

157

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : মূল থেকে বিজেপিতে আসা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাকে দিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা তথাগত রায় বাচ্চু হাঁসদাকে নিয়ে টুইট করে কটাক্ষ করেন। এরপরেই দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির মধ্যেও দলবদলু নেতাকে নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই বাচ্চু হাঁসদাকে নিয়ে শুক্রবার মুখ খুললেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।

বাচ্চু হাঁসদাকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাচ্চুবাবু বিজেপিতে আছেন কি না বা তাঁর কোনও প্রাথমিক সদস্যপদ রয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তিনি কলকাতায় গিয়ে দলের পতাকা নিয়েছিলেন বলে জানি। বিজেপি ক্ষমতায় আসবে ধরে নিয়ে অনেক সুযোগসন্ধানী মানুষ দলে এসেছিলেন, তাঁরাই ঠিক করবেন তাঁরা কোথায় থাকবেন।

- Advertisement -

এদিকে অভিযোগ ওঠে, বাচ্চুবাবু বিজেপির শৃঙ্খলা ভাঙছেন। কারণ, রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী বিজেপিতে থেকেও বারবার তৃণমূলে ফেরার আবেদন জানাচ্ছেন। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন বাচ্চুবাবু। দলের মধ্যে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠলেও আজ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেননি জেলা বা রাজ্য নেতারা।

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বর্তমান রাজ্য কমিটির সদস্য শুভেন্দু সরকার দলের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তোপ দেগেছেন বর্তমান জেলা নেতৃত্বকে। বাচ্চু হাঁসদা প্রকাশ্যেই তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ার পরেও, কেন আজও তাঁকে অন্ততপক্ষে জবাবদিহি চিঠি ধরানো হয়নি সেই প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দুবাবু।

শুভেন্দুবাবু অবশ্য নাম না করেই বর্তমান জেলা সভাপতি ও সাংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এটা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের মদত জোগানো। অথচ অতীতে লঘুপাপেও গুরুশাস্তি হয়েছে।  তবে কি বর্তমানে দলের শৃঙ্খলারক্ষা করার মতো নেতা নেই! নাকি শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের আগলে রাখার চেষ্টা চলছে। এমন অসহায়তা নিয়ে দল পরিচালনা করা উচিত নয়। আরও শক্তহাতে দলের রাশ ধরা উচিত ছিল জেলা নেতাদের। শুধু শুভেন্দু সরকারই নন, বর্তমান জেলা কমিটি এবং প্রাক্তন জেলা নেতাদের অনেকেই বাচ্চুবাবুর বিরুদ্ধে এখনও দল কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অখুশি। দলেই রয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিট পাননি বাচ্চু। তাঁর বদলে এবারের প্রার্থী করা হয়েছিল বালুরঘাট পঞ্চায়ে সমিতির সভাপতি কল্পনা কিস্কুকে। এতেই গোঁসা হয় বাচ্চুর। যার ফলে নির্বাচনের আগেই সোজা কলকাতায় গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তপনের দুবারের বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের এই প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু বিজেপিতে  যাওয়ার বেশ কয়েকAদিনের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয় তাঁর। দলেও ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব তাঁকে দলে ফেরায়নি। শেষ পর্যন্ত তপন কেন্দ্রটিও হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডু।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতেই কার্যত হাঁসফাঁস করতে শুরু করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা। তিনি পুরোনো দলে ফিরতে চেয়ে আকুতি করতে শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের আগেই আমি ফিরতে চেয়েছিলাম। আমাকে তখন দলে নিলে গোপনে না থেকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে পারতাম। আরও ভালো ফল হত তৃণমূলের। দল যদি আবার আমাকে ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আবারও পুরোদমে কাজ করতে পারব।

তবে বাচ্চুকে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলের নীচুতলায় তো বটেই, ওপরের নেতারাও দ্বিধাগ্রস্ত। সোশ্যাল মিডিয়াতে বাচ্চু হাঁসদাকে যাতে না নেওয়া হয় তা নিয়ে পোস্টও করছেন তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরা। বাচ্চুকে নিয়ে তৃণমূলে হইচই হলেও একেবারে শান্ত বিজেপি। বাচ্চুকে নিয়ে কেন চুপ রয়েছে দল, সেই প্রসঙ্গে অবশ্য জেলা সভাপতি বিনয় বর্মনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও  তিনি ফোন ধরেননি।