‘হাউ ইজ দ্য জোশ? হাই স্যার’, লাদাখ কাঁপিয়ে বোঝাচ্ছে বায়ুসেনা

651

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘হাউ ইজ দ্য জোশ? হাই স্যার’, লাদাখ দাপিয়ে এমনটাই বোঝাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেহ ও লাদাখ সফরের পর গুমোটভাব অনেকটাই উধাও হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ওই সফর যে সেনাকে সাহস জুগিয়েছে, তা মানছেন বিশেষজ্ঞরা। সফরের পরপরই লাদাখে আরও প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ভারতের তরফে। জল, স্থল বা আকাশ, সব ক্ষেত্রেই যে ভারত প্রস্তুত, সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে চিনকে। গালওয়ান উপত্যকায় চিনের মাতব্বরি যে আর সহ্য করা হবে না, আঘাত করলে যে চরম প্রত্যাঘাত করা হবে, সেটাও চিনকে ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লাদাখের আকাশ চিরে এখন ছুটে চলেছে ভারতের সুখোই ৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান। কড়া নজর রাখা হচ্ছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায়।

উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় প্রায় দু’মাস ধরে উত্তেজনা চলছে। ১৫ জুন রাতে চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন। তারপর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিদেশমন্ত্রকের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা হলেও কোনও লাভ হয়নি। ভারতের তরফে ইতিমধ্যেই দেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেহ ও লাদাখ সফরে যান। তারপরই লাদাখে আরও এক ডিভিশন সেনা মোতায়েন করা হয়। পূর্ব লাদাখে ভারতের তরফে মোট চার ডিভিশন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ডিভিশনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার করে সৈন্য রয়েছে।

এদিকে, লাদাখের আকাশে এখন সবসময় চক্কর কাটছে ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী। চিনা সেনার গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় সেনা। প্যাংগং লেকের কাছে এখন তীব্র গতিতে ছুটে চলা ভারতের বিভিন্ন যুদ্ধ বিমানের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারির জন্য চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, সুখোই ৩০ এমকেআই, মিরাজ ২০০০, মিগ ২৯ এর নতুন ভার্সন, পি ৮১ এয়ারক্রাফট নামানো হয়েছে ভারতের তরফে। সীমান্তের কাছে ১০ কিমির মধ্যে চিনের জে-৭, জে-১১ এবং জে-১৬ এর মতো বোমারু বিমানগুলিকে উড়তে দেখা গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের হেলিকপ্টার অনেক দিন ধরেই ঘোরাঘুরি করছে বলে খবর। তবে ভারতও বসে নেই। লাদাখে সবসময় টহল দিচ্ছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান।

সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, চিন যে ধরনের যুদ্ধবাজ মানসিকতা দেখাছে, তাতে আর কোনও ঝুঁকি নেওয়ার অবস্থায় নেই ভারত। বিশেষ করে লাদাখের পূর্ব সেক্টরে চিনা যুদ্ধবিমান ও কপ্টারের গতিবিধি বাড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যেকোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হচ্ছে। লাদাখের পূর্বদিকে সামগ্রিকভাবে সেনা মোতায়েন ও সরঞ্জাম বাড়াতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনা। তৈরি রাখা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র।

‘হাউ ইজ দ্য জোশ? হাই স্যার’, লাদাখ কাঁপিয়ে বোঝাচ্ছে বায়ুসেনা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

এদিকে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনার মাঝে ভারতের হাতে আসছে রাফায়েল যুদ্ধবিমান। প্রথমে ঠিক ছিল, এবছরের মে মাসে ৪টি রাফায়েল ভারতের আকাশে উড়বে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারনে তা পিছিয়ে যায়। তবে এবার ৪টি’র পরিবর্তে ৬টি  যুদ্ধবিমান জুলাইয়ের শেষ দিকে ভারতের হাতে আসবে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৭ জুলাই ভারতে পৌঁছবে ওই ৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান। সেগুলি থাকবে হরিয়ানার আম্বালা এয়ারবেসে।

ভারত ৫৯ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এবিষয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়। দুটি স্কোয়াড্রনে ভাগ করে যুদ্ধবিমানগুলিকে দেশের দুই প্রান্তে রাখা হবে। প্রথম স্কোয়াড্রন আম্বালায় থাকবে। আর দ্বিতীয় স্কোয়াড্রন থাকবে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারাতে। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে, চিনের আক্রমণ প্রতিহত করাই এর উদ্দেশ্য। ভারতীয় বায়ুসেনা মনে করছে, ২০২২ সালের মধ্যেই ৩৬টি রাফায়েল ভারতের হাতে চলে আসবে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই ৩৩টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনাকে অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক। রাশিয়া থেকে ১২টি সুখোই-৩০ এমকেআই, ২১টি মিগ-২৯ কেনা হবে। পাশাপাশি ৫৯টি মিগ-২৯ এর আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এজন্য ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।