আমপানে চাল উড়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম নেই

সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অবস্থা। লকডাউনে কাজ গিয়েছে। তার ওপর আমপানের তাণ্ডবে বাড়ির টিনের চালটাও উড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে সুকুমার হেমরমের। সুকুমারবাবু কুশমণ্ডির দেউল পঞ্চায়েতের নাভোর গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। ফলে নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে চালহীন ঘরেই রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় নাম নেই তাঁর। বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য। তবে পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ব্লক প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘর হারানো সুকুমার যাতে ঘর পান, সেই বিষয়টি দেখা হবে।

আমপানের তাণ্ডবের পর দুই সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। আর সেই তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ছাদহীন ঘরে নাবালক দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে দিন পার করছেন সুকুমার। এখনও ভাঙা ঘরের চাল ঠিক করতে পারেননি তিনি। দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই দিন পার হয়ে যায় অসহায় মানুষটির। ঘরের চাল ঠিক হবে কীভাবে জানেন না এখনও। নাবালক ছেলেমেয়ের জন্য বারান্দার একধারে দেওয়ালে দুটো টিন উঠিয়ে নিজে রাত কাটান খোলা আকাশের নীচে। বৃষ্টি এলে অন্যের বাড়ির বারান্দায় বসে থাকেন সারারাত। লকডাউনের কারণে কাজ নেই কোথাও। বিশেষ করে মাঠের কাজ। মাঠের কাজ শুরু হবে বর্ষা শুরু হলে। অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে ভেঙে যাওয়া বারান্দার মাটি সমান করে উঠতে পারেননি। দাঁড়াবার জায়গা পর্যন্ত নেই। অভিযোগ, কষ্ট করে দিন পার করলেও তাকায়নি স্থানীয় দেউল পঞ্চায়েত। আমপানের ঝড়ে ওই পঞ্চায়েতের বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে। তৈরি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে সুকুমারের নাম।

- Advertisement -

মাথা গোঁজার মতো একটা পলিথিন পর্যন্ত তিনি পাননি পঞ্চায়েত থেকে। পঞ্চায়েত সদস্যা সোমা রায় আমপানের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুকুমারের বাড়ির চাল উড়ে যাবার খবর পাননি। পঞ্চায়েত সদস্য জানাননি তাই দায় এড়িয়ে গিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান বিনয় সরকার। পঞ্চায়েতের এমন অসহযোগিতার কারণে ওই গ্রামের বাসিন্দা কালুচরণ মার্ডি, সুফল সরেনরা অকপটে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত কোথায়? প্রতিবেশীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঝড়ে ভাঙা টিন জোড়া দিয়ে চাল তৈরি করতে পারেননি কেউ। নতুন টিন কেনার টাকা নেই সুকুমারের কাছে। পঞ্চায়েত সদস্যা সুকুমারের বাড়ির প্রসঙ্গে কিছুই বলতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আমি দ্রুত সুকুমারের পাশে দাঁড়াব। সুকুমারের অসহায়তার কথা শুনে অবাক হয়েছেন কুশমণ্ডির বিডিও শৈপা লামা। তিনি খবর পাওয়ামাত্রই সুকুমারের পাশে দাঁড়াতে পঞ্চায়েত প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন।