কৃত্রিম পা নিয়ে লক্ষ্যভেদে অটল সুমিত

পাতিয়ালা : ছিলেন কুস্তিগীর। তারপর বছর ছয়েক আগে একটা দুর্ঘটনা। জীবনটাই বদলে গেল হরিয়ানার সুমিত আন্তিলের। এখন জ্যাভলিন থ্রোয়ার হিসেবে লক্ষ্যভেদ করাতেই মন দিয়েছেন বছর বাইশের এই প্যারা অ্যাথলিট।

সম্প্রতি পাতিয়ালার জাতীয় ক্যাম্পে ইন্ডিয়ান গ্রাঁ প্রিতে জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে সপ্তম হয়েছেন সুমিত। তবে ৬৬.৪৩ মিটার থ্রো করে প্যারা স্পোর্টসের এফ৪৪ ও এফ৬৪ ক্যাটিগোরিতে সন্দীপ চৌধুরির বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন। ইভেন্টে ৮৮.০৭ মিটার ছুড়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নীরজ চোপড়ার কৃতিত্বও ম্লান হয়ে গিয়েছে ২০১৯ সালে বিশ্ব প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোজয়ী সুমিতের সামনে। এমনকি ইভেন্ট শেষে দুই তারকা নীরজ ও শিবপাল সিং এবং জাতীয় কোচ উয়ে হন কথা বলেছেন সুমিতের সঙ্গে। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সুমিতের কোচ নাভাল সিংয়ের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা গিয়েছে প্রথম থ্রোয়ার হিসেবে ১০০ মিটারের গণ্ডি অতিক্রম করা হনকে।

- Advertisement -

অ্যাথলিটদের আঁতুড় বলে পরিচিত হরিয়ানার সোনপতের কাছে খেওয়াড়ার বাসিন্দা সুমিত। ছোটবেলা থেকে অবশ্য কুস্তিতে মজে ছিলেন। বিমানবাহিনীর কর্মী বাবা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হারলেও চার ভাইবোনের ছোট সুমিতের খেলা বন্ধ হয়নি। এমনকি তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন সাইয়ে বাহালগড় সেন্টারেরও। কিন্ত ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সুমিতের। যার ফলে তাঁর বাঁ পা বাদ দিতে হয়। ৫৩ দিন হাসপাতালে কাটানোর ফাঁকেই নতুন লক্ষ্য খুঁজে নিয়েছিলেন। ইন্টারনেটে বিখ্যাত প্যারা অ্যাথলিট অস্কার প্রিস্টোরিয়াসের ভিডিও দেখে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর হাতে জ্যাভলিন নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন সুমিত।

সুমিতের কথায়, কুস্তি ও পড়াশোনার মাধ্যমে একটা চাকরি পাওয়াই ছিল আমার লক্ষ্য। তবে দুর্ঘটনা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। করোনার জন্য ২০১৯ সালের পর প্রথমবার কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। যা নিয়ে বললেন, প্যারা অ্যাথলিটদের জাতীয় সংস্থা অনুমতি দেওয়ার পর ইন্ডিয়ান গ্রাঁ প্রি নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত ছিলাম। আসলে আমি নীরজ ভাই ও শিবপাল ভাইয়ের থ্রো সামনে থেকে দেখতে চেয়েছিলাম। আর হনের মতো একজনকে কোচ হিসেবে পাওয়াটা ভাগ্যের বিষয়। কৃত্রিম পা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মা নির্মলা সাহস জুগিয়েছেন। যা নিয়ে সুমিত বলছেন, মা আমার শক্তির উৎস। মাকে অলিম্পিকের মেডলটা এনে দিতে চাই।

ইতিমধ্যেই চলতি বছরের প্যারা অলিম্পিকের টিকিট পেয়ে গিয়েছেন সুমিত। সেখানে পদক জেতাই এখন লক্ষ্য। ছয় বছর আগে দুর্ঘটনার পর নিজেই ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকেছিলেন। প্যারা গেমসে সফল হওয়ার জন্য সেই মনের জোরই পাথেয় সুমিতের।