মেয়েকে পাশে বসিয়ে টোটোয় লড়াই সুমিত্রার

114

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : মেয়ের বয়স মেরেকেটে তিন বছর। বাড়িতে রয়েছে বছর দশেকের ছেলেও। সংসার চালানোয় স্বামীকে সহযোগিতা করতে মেয়েকে পাশে বসিয়ে তাকে কাপড় দিয়ে কোমরের সঙ্গে বেঁধে নিয়ে টোটো চালান শিলিগুড়ির সুমিত্রা রায়। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে এই জীবন সংগ্রাম। খিদে পেলে টোটোতে বসেই খাওয়া। আবার কখনও কাজের চাপে না খেয়ে থাকা। রাতে বাড়িতে পৌঁছে রান্না করে খেয়ে আবার পরের দিনের প্রস্তুতি। এভাবেই জীবনযুদ্ধে হার না মানার লড়াই চালাচ্ছেন সুমিত্রা।

দিনহাটা থেকে তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিলিগুড়িতে চলে এসেছিলেন সুমিত্রাদেবী। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। তাই খুব অল্প বয়স থেকেই ছোটখাটো কাজ করতে শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। পনেরো বছর বয়সে কাজের উদ্দেশ্যে দিল্লি যান। সেখানেই পরিচয় সুনীল সাগরের সঙ্গে। পরিচয় গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। দুজনে কিছুদিন দিল্লিতে দর্জির কাজ করার পর উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সুনীলবাবু স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু সেখানে পারিবারিক সমস্যা হয়। এরপর তাঁরা চলে আসেন শিলিগুড়িতে। সেই থেকেই শিলিগুড়ির অম্বিকানগরে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে দর্জির কাজ করতেন। বছর দশেক আগে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয়। বছরদুয়েক আগে একটি কন্যাসন্তানেরও জন্ম দেন সুমিত্রা। মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল সবই। কিন্তু কোভিডের সংক্রমণের জেরে লকডাউন শুরু হতেই তাল কাটে। কাজ একপ্রকার বন্ধই হয়ে যায়। দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে ওঠে। আনলক প্রক্রিয়া শুরু হতেই সুমিত্রাদেবীর স্বামী দর্জির কাজ ছেড়ে দিয়ে টোটো নিয়ে বের হন। কিন্তু শহরে টোটোর সংখ্যা প্রচুর। তাই সেভাবে আয় হচ্ছিল না। তাই সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে সুমিত্রাও টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো মেয়েছে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সুমিত্রা। পাশে মেয়েকে বসিয়ে কাপড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখেন, যাতে পড়ে না যায়। সকালেই টিফিন বাক্সে খাবার নিয়ে আসেন। দুপুরে টোটোতে বসেই খাবার খান। বছরদশেকের ছেলে বাড়িতেই থাকে। তবে বাবা-মা কাজে থাকায় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে আপসোস করেছেন সুমিত্রাদেবী। তিনি বলেন, ছেলেকে পড়াতে চাই, কিন্তু দুজনেই কাজে বেরিয়ে পড়ি, তাই সম্ভব হয় না।

- Advertisement -