দুবার সংক্রমণেও দমেননি, সচেতনতায় পথে স্বাস্থ্যকর্মী সুমন

93

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : পরপর দুবার থাবা বসিয়েছে করোনা। তবু কমাতে পারেনি জলপাইগুড়ির সুমনবাবুর অদম্য প্রাণশক্তিকে। করোনার বিরুদ্ধে নিজে দুবারই লড়ে জিতেছেন। তারপরেও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সিনিয়ার ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার সুমন সরকার। জলপাইগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলার বাসিন্দা মধ্য ত্রিশের এই যুবক জলপাইগুড়ির পাশাপাশি ময়নাগুড়িতেও করোনা রোগ নিয়ে  সচেতনতামূলক প্রচারের পুরোভাগে থাকছেন। সুমনের এই কীর্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে নীচুতলার কর্মীরাও। সেইসঙ্গে কদমতলার সর্বস্তরের মানুষ সুমনের জনকল্যাণকর কাজ দেখে মোহিত।

ময়নাগুড়ি হাসপাতালে সিনিয়ার ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার পদে কর্মরত সুমনবাবু। জলপাইগুড়ি শহরের স্টুডেন্ট হেলথ হোমের সহ সম্পাদক পদেও আসীন তিনি। সাতসকালে বেরিয়ে পড়েন কর্মস্থল ময়নাগুড়ির উদ্দেশে। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পরে বিকেল থেকে প্রতিদিন জলপাইগুড়ি শহরে করোনা রোগের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচার করে চলেছেন তিনি। ২০২০ সালের জুন মাসে প্রথমবার করোনা ধরা পড়েছিল সুমনের। সেসময় জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই যুবক। সেরে উঠতে না উঠতেই আবার থাবা বসায় করোনা। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে আবার করোনা সংক্রামিত হন তিনি। প্রথমবার তিনি সংক্রামিত হওয়ার পরেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান পরিজনরা। মাসখানেকের মধ্যেই দ্বিতীয়বার করোনা ধরা পড়ার পর তো হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা। সেবার কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে সুস্থ হয়ে উঠে ঘরে বসে থাকেননি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেকে শামিল করেছেন।

- Advertisement -

সেসময় করোনা রোগ নিরাময়ে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি ছিলেন ডাঃ সুশান্ত রায়। তিনি আগেই সুমন সরকারকে তাঁর অবদানের জন্য সংবর্ধনা জানিয়েছেন। সুশান্তবাবু বলেছেন, আদর্শবান এবং কর্মনিষ্ঠ সিনিয়ার ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার সুমন সরকার যেভাবে করোনা রোগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রচার এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে নিজেকে যুক্ত করেছেন, তা দৃষ্টান্তযোগ্য। সুমনের সহকর্মী নবনীল দত্ত বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করে মানুষের সেবায় নিজেকে যুক্ত করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় সুমনদা। তাঁর জন্য আমরা গর্বিত।

সুমনবাবু নিজে অবশ্য নিজের কাজ নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে নারাজ। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে আমার দায়বদ্ধতা আছে। দায়বদ্ধতার অঙ্গ হিসেবেই এই কাজ করে চলেছি। দুবার করোনা সংক্রামিত হয়েছি। চিকিৎসকদের চেষ্টায় আমি সুস্থ হয়ে উঠতে পেরেছি। তাই বাকিদেরও সচেতন করতে চাই। যক্ষ্মা রোগীদের সুস্থ রাখার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ করতে হয়, সে ব্যাপারে প্রচার করাও আমার কাজ। কোভিড সংক্রামিত হলে যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যত্রতত্র কফ, থুতু ফেলা উচিত নয়। সুমন আরও বলেন, আমি অসুস্থ থাকাকালীন প্রতিবেশী পরিচিতজনরা যেভাবে আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। সুমনের স্ত্রী রীমা আলম একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষিকা। মানুষের পাশে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য স্বামীকে ধারাবাহিকভাবে অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছেন তিনি।