নদীতে ভেসে আসা গাছ বাঁচার রসদ সুমনদের

533
ফালাকাটার চরতোর্ষা নদীতে ভেসে আসা গাছ সংগ্রহে ব্যস্ত স্থানীয়রা।

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী এখন কয়েক হাজার মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ। ভারী বৃষ্টি হলেই ডাইভারশন কখনও জলে ডুবে যাচ্ছে। আবার কখনও ভেঙে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে পড়ছে যানবাহন চলাচল। এ নিয়ে মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। কিন্তু এই নদীতে ভেসে আসা বনাঞ্চলের গাছ ও গাছের গুড়ি অনেকের কাছে উপার্জনের মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে প্রচুর গাছ ভেসে এসে ডাইভারশন ও জলের পাইপের খুঁটিতে আটকে পড়ে। জল কিছুটা কমায় নদীতে নেমে এখন ওইসব গাছ তুলে নিচ্ছেন এলাকার কিছু মানুষ। এই গাছ বিক্রি করেই কিছু অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। তা দিয়ে সন্তানদের জন্য পুজোর নয়া বস্ত্র কেনার সিদ্বান্ত নিয়েছেন কেউ কেউ। তাই হাজারো মানুষের ভোগান্তির মধ্যেও এই গাছ সংগ্রহকারীদের মুখে এখন চওড়া হাসি।

ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশন চলতি বর্ষায় ১৫ বার জলমগ্ন হয়েছে। তবে শেষবার সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। গত রবিবার ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার থেকেই ডাইভারশন জলে ডুবে যায়। এদিকে জলের ধাক্কায় ভেঙে যায় ডাইভারশনের একাংশ। ভেঙেছে একদিকে অ্যাপ্রোচ রাস্তাও। আবার ডাইভারশনের পাশে থাকা পিএইচই-র জলের পাইপ লাইন ভেঙে যাওয়ায় পানীয় জল পাচ্ছেন না কয়েক হাজার মানুষ। এ নিয়ে গত শুক্রবার অবস্থান বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এখন তাপ্পি মেরে ডাইভারশন সারাইয়ের কাজ শুরু হলেও বড়-ছোট যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি৷ এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা কয়েকদিন থেকে দা,কুড়োল,হাত করাত নিয়ে ডাইভারশন লাগোয়া নদীতে নেমে ভেসে আসা গাছ ও গাছের গুড়ি সংগ্রহের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেছেন।

- Advertisement -

জলদাপাড়া বনাঞ্চলের ভিতর হয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে গিয়েছে চরতোর্ষা নদী। সূত্রের খবর, ভারী বৃষ্টি হলে উজানে নদীর পাড় ভেঙে জঙ্গলের প্রচুর গাছ ভাটিতে ভেসে আসে। ফালাকাটার চরতোর্ষা ডাইভারশনে এসে গাছগুলি আটকে পড়ে। কারণ, এই ডাইভারশনে হিউম পাইপ থাকায় এবং জলের পাইপ লাইনের কিছু খুঁটির জন্য গাছগুলি আর ভাটিতে ভেসে যেতে পারে না। বৃষ্টি হলেই স্থানীয়দের একাংশ এই গাছের দিকেই নজর দেন। এখন নদীর জল অনেকটাই কমেছে। তাই কয়েকদিন থেকেই ভেসে আসা গাছ সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সুমন বিশ্বাস, শিবেন রায়, ধীরাজ ওরাওঁ,সত্যেন দাসরা জানান, এবার করোনা পরিস্থিতিতে কাজকর্ম নেই বললেই চলে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই নদীতে এবার প্রচুর গাছ ভেসে আসছে। জল বেশি থাকলে গাছ সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এখন জল কমায় গাছ ও গাছের গুড়ি সংগ্রহের কাজ চলছে। তাঁরা আরও জানান, এই গাছ সংগ্রহে অন্য কোনও ঝুঁকি নেই। স্থানীয় কাঠের ব্যবসায়ীরাই সেগুলি কিনে নিচ্ছেন। আবার বাড়ির জন্য জ্বালানীর কাঠও পাওয়া যাচ্ছে। সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু রোজগার সেরকম নেই। এইসব গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাচ্ছি,তা দিয়েই সন্তানদের নয়া জামাকাপড় কিনে দেব।’ এ প্রসঙ্গে ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ বর্মন বলেন, ‘পরিস্থিতির জেরেই হয়তো এভাবে অনেকে নদীতে ভেসে আসা গাছ সংগ্রহ করছে। তবে কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য সতর্কতার প্রয়োজন। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’