উদবোধনের আট মাসেও সিজার চালু হয়নি ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে

372

ফালাকাটা : গত বছর ২৬ নভেম্বর ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চালু হয়েছিল ইনডোর বিভাগের। বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সও রয়েছেন এই হাসপাতালে। কিন্তু ইনডোর বিভাগ চালুর পর আট মাসেও শুরু হয়নি সিজার ও ওটি। সিজার চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ফালাকাটার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে। রোগী ও পরিজনদের অভিযোগ, সিজার চালু না থাকায় অনেক সময় এই হাসপাতালে ভরতি করানোর পরই জরুরি ভিত্তিতে গর্ভবতীদের সিজারের জন্য নিয়ে ছুটতে হয় আলিপুরদুয়ার বা কোচবিহার জেলা হাসপাতালে। পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিনেও সিজার চালু হল না সেই প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের অনেকেই। আলিপুরদুয়ারের ডেপুটি সিএমওএইচ-২ সুবর্ন গোস্বামী বলেন, ‘সমস্ত প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সিজার ও ওটি চালু হবে।’

ফালাকাটা গ্রামীণ হাসপাতালের পাশেই গত বছর তৈরি হয় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাস। প্রথমে চালু হয় আউটডোর পরিসেবা। গত নভেম্বরে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে তৎকালীন আলিপুরদুয়ার জেলাশাসক নিখিল নির্মলের উদ্যোগে ইনডোর বিভাগের উদবোধন হয়। ৩০০ বেডের পরিকাঠামো তৈরি হলেও এখনও অবধি ১০০ বেড চালু রয়েছে। ১৬ জন চিকিৎসক ও ৫০ জন নার্সও নিয়োগ করা হয়। ঝা চকচকে হাসপাতাল চত্বরে এসে অনেকেই খুশি হন। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে প্রসূতি ও ওটি বিভাগ নিয়ে।

- Advertisement -

শহর সহ ফালাকাটা ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পুরোপুরি এবং পাশের আলিপুরদুয়ার ১, মাথাভাঙা ও মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য ফালাকাটার উপর নির্ভর করেন। পাঁচ মাস আগে কালীপুর গ্রামের দীনেশ বর্মনের পথ দুর্ঘটনার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ওটি চালু না থাকায় পরে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা হয় কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁর ছেলে সুবল বর্মন বলেন, ‘এজন্য লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। ফালাকাটায় ওটি চালু থাকলে এত টাকা লাগত না।’ আড়াই মাস আগে ভূটনিরঘাটের রামকৃষ্ণ ভৌমিকের স্ত্রীর পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তিনি বলেন, ‘স্ত্রীকে প্রথমে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করানো হয়। কিন্তু সিজার চালু না থাকায় স্ত্রীকে কোচবিহারে নিয়ে যাই।’

ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার তথা বিএমওএইচ চন্দন ঘোষ বলেন, ‘এই দাবি এক বছর ধরে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে জানিয়ে আসছি। এখানে চিকিৎসকও রয়েছেন। কিন্তু ওটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এলেই পরিসেবা চালু হবে।’

ছবি : ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন