অগ্রাধিকার পেয়েও টিকায় অনীহা সুপারস্প্রেডারদের

153

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : একদিকে ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার, অন্যদিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হচ্ছে তাঁরা ভ্যাকসিন নিতে যাচ্ছেন না। শিলিগুড়িতে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে বিরক্ত স্বাস্থ্য দপ্তর। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বহু মানুষ দ্বিতীয় ডোজ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। অনেকেই প্রথম ডোজের জন্যও এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে ঘুরছেন। কোউইন অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে নির্দিষ্ট স্লট  পেয়ে এসে শুনছেন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, সরকারি নিয়মেই ১৪টি পেশার মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা যদি সময় মতো গিয়ে ভ্যাকসিন না নেন, তাহলে আমাদের আর কিছু বলার নেই।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৪টি পেশার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের তালিকাভুক্ত করে। সেই তালিকায় সমস্ত ধরনের হকার, পরিবহণকর্মী, রেশন ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, কোভিড ভলান্টিয়ার, বিভিন্ন হোমের পরিচালক, আইনজীবী, মুহুরি, ল ক্লার্ক, সবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতারা রয়েছেন।

- Advertisement -

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলা শাসক এবং মহকুমা শাসকের অফিস থেকে এই সমস্ত পেশার মানুষের তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে কোভিড ভ্যাকসিনেশন সেন্টার (সিভিসি)-এ পাঠানো হবে। সেই তালিকা মতোই প্রতিদিন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।সরকারি নির্দেশ মতো প্রতিদিনই কম্পিউটারের এক্সেল ফর্মাটে কোনও সিভিসিতে ১০০, আবার কোনও সিভিসিতে ১৫০ জনের তালিকা যাচ্ছে। কিন্তু ভ্যাকসিন নিতে আসছেন না তালিকাভুক্তরা।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি সিভিসিতেই কয়েকদিন ধরে এই ঘটনা ঘটছে। শিলিগুড়ির মহকুমা শাসকের অফিস থেকে পাঠানো তালিকা মতোই ভ্যাকসিন প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সময় মতো সিভিসি খুলে বসেও থাকছেন চিকিৎসক, নার্সরা। কিন্তু তালিকাভুক্তরা সেভাবে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন না।

অথচ প্রতিটি সিভিসির বাইরে ভ্যাকসিনের জন্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। বহু বয়স্ক মানুষও ভ্যাকসিনের জন্য সকাল থেকে ভিড় করছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশ না থাকায় প্রথম ডোজ সাধারণ মানুষকে দেওয়া বন্ধ রয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের জন্য ভ্যাকসিন মজুত করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা ঠিকমতো আসছেন না। আবার অন্যদেরও সেই ভ্যাকসিন দেওয়া যাচ্ছে না। যাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তাঁরা আদৌ তা বুঝছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।