হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে দাপট ওঝার, নীরব ভূমিকায় চিকিৎসক

232

কিশনগঞ্জ: হাসপাতালে বসেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সামনে চলল ওঝার দাপট। আর দাপট এতটাই যে ওঝার সামনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বাধ্য হন চিকিৎসক। একুশ শতকেও এই ঘটনার জেরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনাস্থল কিশনগঞ্জ সদর হাসপাতাল। শনিবার রাতে হাসপাতালে রামচন্দ্র পাসোয়ান নামে এক মৃগী রোগীকে ভর্তি করা হয়। রামচন্দ্রের মা পারো দেবী হাসপাতালেরই সাফাইকর্মী। পারোদেবী নিজের ছেলের চিকিৎসায় তাঁর পরিচিত দুই ওঝাকে ডেকে পাঠান। হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এসে উপস্থিত হন দুই ওঝা। চিকিৎসকের সামনেই তাঁরা নিদান দেন রোগীকে ভূতে ধরেছে। দ্রুত স্যালাইন ও অক্সিজেন খুলে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক ডাঃ শাহনওয়াজের সামনেই রোগীর স্যালাইন ও অক্সিজেনের পাইপ খুলে দেন পরিবারের লোকজন। যদিও কিছুক্ষণ পরে তা ফের লাগিয়ে দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু বেগতিক বুঝে চিকিৎসক ওয়ার্ড ছেড়ে চলে যান। তাঁর বক্তব্য, এই হাসপাতালে রাতে চিকিৎসকদের কোনও নিরাপত্তা নেই। এরকম ঘটনার প্রতিবাদ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। যদিও রোগীর মা পারো দেবীর বক্তব্য, ছেলের হাওয়া লেগেছিল। ডাক্তারবাবুর ওষুধে কোনও কাজ হচ্ছিল না। সেইজন্য ওঝাদের ডেকেছিলাম। ওঝার ঝাড়ফুঁকে ছেলে ভালো হয়ে যাবে। যদিও ওঝা ফরিদা জালাল ও মহম্মদ জসীমের দাবি, বহু মানুষকে সুস্থ করলেও তাঁদের আর কেউ বিশ্বাস করে না।

- Advertisement -

যদিও বিষয়টি কুসংস্কার বলে মেনে নিয়েছেন রোগীর আত্মীয় ও সমাজসেবী দীপক পাসোয়ান। তিনি জানান, এই সব কুসংস্কারের জন্যে অনেকেই মারা যান। রবিবার এই হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।