শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহে ‘না’ গৌড়বঙ্গের একমাত্র বটলিং প্লান্টের

100

গাজোল: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশে। লাগামছাড়া সংক্রমনের জেরে দিনের-পর-দিন গোটা দেশে ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালের মতোই ঠাঁই নেই রব উঠেছে শ্মশান এবং গোরস্থানে। এরইমধ্যে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। অক্সিজেনের অভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে করোনা রোগীদের। অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। কিন্তু তা সত্বেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। এরইমধ্যে গৌড়বঙ্গে অক্সিজেন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাতে জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে চলেছেন গৌড়বঙ্গের একমাত্র অক্সিজেন বটলিং প্লান্ট শংকর গ্যাসের আধিকারিক থেকে কর্মীরা। শিল্পক্ষেত্রের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের উৎপাদন বন্ধ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলিং-এর কাজ চলছে দিনরাত।

বটলিং প্লান্টের শুধু কর্মীরা নন কাজে হাত লাগিয়েছেন প্লান্টের ম্যানেজারও। একের পর এক সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বটলিং প্লান্টের ম্যানেজার দীনেশ তিওয়ারি জানান, বর্তমানে সারা দেশজুড়ে অক্সিজেনের সংকট চলছে। গৌড়বঙ্গে এই অক্সিজেন বটলিং প্লান্ট থেকেই মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং উত্তর দিনাজপুরের সমস্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম গুলিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সাপ্লাই করা হয়। গাজোল ছাড়া আরেকটি বটলিং প্লান্ট রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং শিলিগুড়িতে। এতদিন শিল্প এবং স্বাস্থ্য এই দুই ক্ষেত্রের অক্সিজেন সিলিন্ডার বটলিং-এর কাজ চলত। বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। আগে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি সিলিন্ডার বটলিং করা হত। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০-তে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের কথা মাথায় রেখে কর্মীরা হাসিমুখেই অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করে চলেছেন। অক্সিজেনের অভাবে একটি রোগীও যাতে মারা না যান তার জন্য প্লান্টের করোনা যোদ্ধারা দিনরাত এক করে কাজ করে যাবেন।

- Advertisement -

সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। সংগঠনের ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ জানান অক্সিজেন সরবরাহে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য শ্রমিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সমস্ত শ্রমিকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ভোটের দিনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে গাজোলের অক্সিজেন বটলিং প্লান্ট শংকর গ্যাস যেভাবে দিনরাত এক করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলিং করে চলেছে তাতে গৌড়বঙ্গে হয়তো অক্সিজেনের সমস্যা দেখা নাও দিতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে প্লান্টের যন্ত্রপাতির উপর। যন্ত্রপাতি যদি মসৃণভাবে চলে তাহলে সেই অনুপাতে অক্সিজেন সরবরাহের কাজও মসৃণ ভাবেই চলবে বলে মনে করছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ।