বিতর্কিত রায়ের জেরে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতির স্হায়ী নিয়োগে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের

87

নয়াদিল্লি: যৌন নির্যাতন নিয়ে পর পর বিতর্কিত রায়। যার জেরে বম্বে হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতি পুষ্প গনেরিওয়ালাকে স্থায়ী পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এল সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন কলেজিয়ামের অন্য ২ সদস্য বিচারপতি এনভি রামানা এবং বিচারপতি আরএফ নরিম্যান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া নির্দেশে বিচারপতি গনেড়িওয়ালাকে স্থায়ী বিচারপতি করার সিদ্ধান্ত শুক্রবার প্রত্যাহার করেছে কলেজিয়াম। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের দুই শীর্ষ স্থানীয় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়া এবং এএম খানউইলকর গনেরিওয়ালাকে নিয়ে ‘আপত্তি’ জানিয়েছিলেন।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, পসকো আইনের মামলায় গনেরিওয়ালা তাঁর রায়ে বলেছিলেন, শিশুর ত্বকে সরাসরি স্পর্শ না হলে, তা যৌন নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হবে না। পোশাকের ওপর দিয়ে স্পর্শ করলে সেটি পকসো আইনের আওতায় আসবে না।

এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন মামলার রায় শোনাতে গিয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে বম্বে হাইকোর্টের তরফে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, গোপানঙ্গ স্পর্শ না করলে সেটি পকসো আইনে গণ্য হবে না। তবে, পেনিট্রেশন বা সঙ্গম হলেই তা যৌন নির্যাতন হবে এমন নয়। যৌন স্পর্শ করলেও তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হবে। কিন্তু পোশাকের ওপর দিয়ে স্পর্শ হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এর আগেও তিনি একটি রায়ে বলেছিলেন, প্যান্টের জিপ খুলে রাখা বা জিপ খুলে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন মানেই যৌন নির্যাতন হয়। সেক্ষেত্রে ত্বকে স্পর্শ হচ্ছে না। ফলে তা পকসো আইনের আওতায় পড়ে না।

এক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের মামলায় বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। গনেরিওয়ালা বম্বে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ হন ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুম্বইয়ের সিটি সিভিল কোর্ট, জেলা আদালত এবং নাগপুরের পারিবারিক আদালতেও।