দিল্লি পুলিশই নিক সিদ্ধান্ত, কৃষক র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রের কোর্টে বল ঠেলল শীর্ষ আদালত

158
ছবিটি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে কৃষকরা ট্র‍্যাক্টর র‍্যালি করবে কি না তা ঠিক করুক দিল্লি পুলিশই। কারণ এটি রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার বিষয়।দিল্লি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ায় দিল্লি পুলিশকেই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মতপোষণ করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এক কথায়, ঘুরিয়ে বিষয়টি কেন্দ্রের কোর্টেই ঠেলে দিল শীর্ষ আদালত। তার কারণ দিল্লি পুলিশ রাজ্য নয়, কেন্দ্র সরকারের অধীন। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন, প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করার বিষয়ে কেন্দ্র এবং কৃষকদের কাজিয়া থেকে এভাবেই দূরত্ব বজায় রাখল শীর্ষ আদালত।

বিতর্কিত তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লির রাজপথে ট্র‍্যাক্টর র‍্যালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা। এ নিয়ে কৃষকরা আগেই জানিয়েছিলেন, কোন রকম বিশৃঙ্খলা বা সরকারি অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার কোন অভিপ্রায় নেই তাঁদের। প্রজাতন্ত্র দিবসের উপলক্ষে সরকারি কুচকাওয়াজ শেষ হওয়ার পরে তাঁরা র‍্যালি করবেন। এর সঙ্গে উত্তর দিল্লির বিখ্যাত রামলীলা ময়দানে জমায়েত করতে চেয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে আর্জি জানান তারা, যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সাড়াশব্দ করেনি পুলিশ। উল্টে এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। আজ এই মামলার শুনানীতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, ‘দিল্লিতে কৃষকদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ ভাবেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়। এ নিয়ে আদালত আগেই জানিয়েছে কতজন আসবে বা না আসবে সে বিষয়ে ঠিক করবে পুলিশ, আদালত নয়৷ দিল্লি পুলিশের কাছে অধিকার আছে এ বিষয়ে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার’ এই কথা শুনে অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে অর্ডার জারি করার অনুরোধ করেন। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে আদালতের মন্তব্য, ‘এখন কী তবে কেন্দ্রকে আইনপ্রণয়নের জন্য আদালতের রায় নিতে হবে।’

- Advertisement -

মেহতা বলেন, ‘এক বেনজির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কৃষক আন্দোলন ঘিরে। তাই এ বাড়তি সতর্কতা।’কিন্তু কেন্দ্রের সেই আর্জি শোনেনি শীর্ষ আদালত। তাঁদের দাবি, এ ধরণের কোনও রায় দিলে আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। এদিন কৃষকদের তরফে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রে ট্র‍্যাক্টর র‍্যালি করা কৃষকদের সাংবিধানিক অধিকার। কৃষকরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই তা করবে। হাজার হাজার মানুষ তাতে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন নেতা পরমজিত সিং বলেন, ‘আমরা রাজপথে বা কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের সময় এই র‍্যালি করবো না। এমনকি কোনও হাই-সিকিউরিটি জোনেও হবে না এই র‍্যালি। দিল্লির আউটার রিং রোডে এই র‍্যালি বের করা হবে। তাতে আপত্তি থাকার কথা নয় দিল্লি পুলিশের।‘

এদিকে, তিন বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারে দাবি ঘিরে এখনও অনড় কৃষক সংগঠনগুলি। দিল্লির বিভিন্ন সীমান্তে আরও জোরদার হচ্ছে আন্দোলন। কৃষক’রা জানিয়েছেন, আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের সাথে আলোচনাও চালিয়ে যেতে মনস্থ তারা। ইতিমধ্যেই কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ন-দফা বৈঠকে বসেছে কেন্দ্রীয় ও কৃষক প্রতিনিধিরা। কিন্তু ন’দফা বৈঠক-ই রয়েছে ‘নিস্ফলা’। আগামী ১৯ জানুয়ারি দশম দফা বৈঠকে ফের মিলিত হতে চলেছে কেন্দ্র ও কৃষক সংগঠন। আজ দিল্লির সিংঘু টিকড়ি ও গাজিপুর বর্ডারে আয়োজিত হয় ‘মহিলা কৃষক দিবস’।

এদিন কিষান সভার তরফে বহু বিশিষ্ট কৃষক নেতাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের এর অভিযোগে এনআইএ-র তরফে শমন পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়। এদিন একই সাথে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে কৃষক আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে কঠোর মনোভাব দেখা যায় আন্দোলনকারী সংগঠনগুলিকে। এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে সংযুক্ত কিষাণ সংঘর্ষ সমিতির তরফে ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন নেতা গুরনাম সিং চদুনি-কে বহিস্কার করা হয়।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লিতে আপ, কংগ্রেস, অকালী দল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল’গুলির সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি কৃষক আন্দোলনে সাহায্য ও সমর্থন চান৷ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা, কৃষক সংগঠনগুলির প্রথম নীতি ছিল। কৃষক আন্দোলনে কোনও ভাবে কোন রাজনৈতিক রঙ লাগতে দিতে চান না কৃষকরা। তাই বহিস্কারের খাঁড়া নেমে এসেছে চদুনির উপর। বহিস্কৃত কৃষক নেতা অবশ্য গোটা বিষয়টি কৃষকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রূপে ব্যাখা করেন। এই মুহুর্তে আগামীকাল কৃষক ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে চলা দশম দফা বৈঠকের দিকে নজর রাখছে সব মহল।