টাকার দাবি, নিশ্চয় যানে উঠতে না পেরে অসুস্থ প্রসূতি

120

রায়গঞ্জ: নিশ্চয় যান না মেলায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে টানা ছয় ঘণ্টা সদ্যজাত সন্তান কোলে অপেক্ষারত এক প্রসূতিকে। এরপর আচমকাই মাথা ঘুড়িয়ে পড়ে যান সদ্যজাতকে নিয়ে। ঘটনায় কিছুটা আহত হয় সদ্যজাত সহ প্রসূতি। এরপরেই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকেরা। শুরু হয় ক্ষোভ-বিক্ষোভ। পরে মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ নিখরচায় সদ্যোজাত শিশু ও তাঁর মাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা সরকারি নিশ্চয় যানের মাধ্যমে। যদিও, রোগীর পরিজনদের অভিযোগ নিশ্চয় যান প্রকল্পের গাড়িচালকদের টাকা না দিলে পরিষেবা মিলছে না। টাকা না দেওয়ায় অতীতে প্রতিবাদ করায় একাধিক রোগীর পরিবার আক্রান্ত হয়েছে বলেও খবর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই প্রসূতি তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে বসেছিলেন সকাল আটটা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত। পরিবার সূত্রে খবর, ২৪ তারিখ রায়গঞ্জ থানার ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুরের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন ভাটোল গ্রামীণ হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চলতি মাসের ২৫ তারিখ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় তাঁকে। এদিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা তাঁর। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়ার পর নিশ্চয় যানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। অভিযোগ, নিশ্চয় যান চালকেরা টাকার দাবি করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, টাকা না দিলে তাঁরা যাবেন না।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘১০২ নিশ্চয় যান প্রকল্প আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। নিয়ন্ত্রণ করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর যা বলার তারাই বলবে।’

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘রোগীর পরিজনেরা নিশ্চয় যান প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ করতে আসলে তাদেরকে কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়।’

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক চন্দ্র মন্ডলকে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

নিশ্চয় যান নিয়ে বারবার এভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয় রোগীর পরিজনেদের। অভিযোগ, একটি চক্র এখানে সক্রিয় রয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের রমরমা তো রয়েছেই পাশাপাশি সরকারি নিশ্চয় যান প্রকল্পের গাড়ি যেখানে নিখরচায় পরিষেবা দেওয়ার কথা সেখানেও পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে পাঁচশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এমনটাই অভিযোগ রোগী সহ তাঁদের পরিবার-পরিজনদের।

নিশ্চয় যান প্রকল্পের গাড়িচালকদের বক্তব্য, ‘মালিক মাসে আমাদের তিন হাজার টাকা করে বেতন দেয়। সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে? তাই রোগীর পরিবার পরিজনদের কাছ থেকে বখশিস হিসেবে টাকা চাওয়া হয়। কোনও জোর জুলুম করা হয় না।’