হাতির হানা রুখতে নজরদারি কৃষকদের

250

ময়নাগুড়ি: হাতির হানা রুখতে এবার দলবদ্ধ হয়ে নিজেরাই রাত পাহাড়ার কাজে নামতে শুরু করলেন ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই এলাকার বাসিন্দারা৷ গত মাসের আকস্মিক জল বেড়ে যাওয়ার দরুণ জলঢাকা নদী লাগোয়া প্রায় দুইশো বিঘা জমির আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই পরিস্থিতি কিছুটা কাটিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে আলুর চাষ শুরু করেছেন৷ কিন্তু তা পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই হাতির আগমনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা আলুর খেত৷ শনিবার রাতের পরেও রবিবার রাতেও হাতির আগমনে রীতিমতো চিন্তিত এলাকার আলু চাষীরা।

পানবাড়ি নৌকাবিহার এলাকায় সোমবার রাতে হাতির হানায় বেশ কিছু জমির আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রামশাই এলাকার বিস্তীর্ণ জায়গাতেও হাতির হানা অব্যাহত ছিল। গরুমারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে জলঢাকা নদী লাগোয়া পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ছোটো ছোটো জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে হাতির দলটি। সন্ধ্যের পরেই দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গাতে হানা দিচ্ছে হাতি। লাগাতার হাতির হানায় দুশ্চিন্তায় পরেছেন এলাকার আলু চাষীরা। আলুর পাশাপাশি ধানের ক্ষেতেও হানা দিচ্ছে হাতি৷ পানবাড়ি নৌকাবিহার এলাকার আলুচাষী মদন রায় বলেন, যেভাবে হাতির আনাগোনা শুরু হয়েছে তা সত্যি চিন্তার বনদপ্তরের নজরদারি বাড়াবার দাবী জানান তাঁরা।

- Advertisement -

মদন বাবু জানান, হাতির দলটিতে ছোটো শাবক রয়েছে। বিগত কয়েকদিন আগে বিভিন্ন জায়গাতে হাতির দল থেকে শাবক যেভাবে দলছুট হয়ে পরছে সেজন্য তাঁরা হাতিগুলিকে কোনোভাবেই উত্যক্ত করছেন না। আগুন জ্বালিয়ে বাধের ওপরে বসেই রাত পাহাড়ার কাজ করছেন। তাই এলাকায় বনদপ্তরের নজরদারি বাড়াবার দাবী জানান তিনি।

এলাকার আরও এক চাষী নিরেন রায় জানান, আলুর ওপরেই এই এলাকার চাষীরা নির্ভরশীল। অন্যদিকে রামশাই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনাকয়েক আলু চাষী সন্তোষ মন্ডল, তাপশ রায়েরা জানান, রবিবার রাতভর হাতি এলাকায় ঘুরাফেরা করে। বেশ কিছু জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতি গুলির বেশ কিছু কাছের সোশ্যাল ফরেস্টের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয় রামশাই মোবাইল স্কোয়াডের রেঞ্জার বিশ্বজ্যোতি দে জানান, বিভিন্ন জায়গাতে হাতি বের হওয়ার খবর আসছে তাঁরা নজরদারি চালাচ্ছেন। একই সময় একাধিক জায়গাতে হাতি বের হওয়ার দরুণ সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেককে সার্চ লাইট ও পটাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি।