একযোগে তৃণমূল-বিজেপিকে আক্রমণ সূর্যকান্তর

246

আসানসোল: একদিন যারা বলেছিল ‘ভাগ মুকুল ভাগ’। এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সেই মুকুল রায়। আর যাঁদের নাম নারোদা ও সারদার অভিযোগ আকারে ছিল, তাঁরাই এখন বিজেপির মাথায় গিয়ে বসে পড়েছেন। আর অধিকারী বাড়ির ছেলে ২০১৪ সাল থেকেই ওই দলের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেটা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে নিরুপম সেন স্মারক বক্তৃতায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্র। এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে দলের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়, সিটুর জেলা নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরী আভাস রায় চৌধুরী, পার্থ মুখোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজেপি রাজ্যে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর দাবি করছে? সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘সেটাতো নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। ওরা বলার কে? বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে একের পর এক নেতারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এর মোকাবেলা কিভাবে করবেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমরা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। তা করে যাব।’

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপজ্জনক। শ্রমিক বিরোধী, কৃষক বিরোধী আইন একের পর এক এই সরকার আনছে। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি স্বাধীনতার পরে দেশে আর কখনও হয়নি বা দেখা যায়নি। এই সরকারের জন্য দেশের খাদ্য নির্ভরতা চলে যাবে। খাদ্য নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকবে না। কেন্দ্র সরকারের নতুন কৃষি আইনে ঠিক করে দেবে কার জমিতে চাষ হবে, কোথায় হবে, কখন হবে। আরও পরে আস্তে আস্তে সেই জমিটাও কেড়ে নেবেন তাঁরা। দেশে যেভাবে কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, মানুষ কাজ হারিয়েছেন তাতে চলতি বছরের শেষে ২০ কোটি বেকার হবে। পরিবার ধরলে এই সংখ্যাটা ১০০ কোটি মানুষ হয়ে যাবে। এটা মনে রাখতে হবে আজ গণতন্ত্র বিপন্ন। সংসদের অধিবেশন পর্যন্ত হচ্ছে না। কোথায় গিয়ে মানুষ কথা বলবেন? দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় কৃষকরা অবরুদ্ধ করে কালা আইনের প্রতিবাদ করছেন। তাতে কৃষক মারা যাচ্ছেন। আর তিনি ট্রাম্পের মত ব্যবহার করছেন।’

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধ জোট হবে। সেই জোট সাধারণ মানুষের প্রকৃত ভরসার জায়গা হবে বলে দাবি করেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মূল সমস্যা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যাংক ও বীমা শিল্পকে আস্তে আস্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতলব করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে একযোগে ঐতিহাসিক ধর্মঘট পালন করেছি দেশজুড়ে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর এখন যে মিছিল ও সভা হচ্ছে তার অনেক আগেই আমরা সেখানে এরচেয়েও বড় মিছিল ও সভা করেছি। বিহার ও কেরলের পরে সর্বশেষ কাশ্মীরের নির্বাচনী ফল দেখে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করছি এটাই সবচেয়ে ভালো সময় দিল্লির এই সরকারকে হটানোর। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে হঠাতে সমস্ত দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে। তার সূচনা ইতিমধ্যেই কৃষকরা করে দিয়েছেন দিল্লিতে। এবার আমাদের পালা।’