টোল ব্যবসা থেকে দুষ্কৃতীযোগ সুশীলের

নয়াদিল্লি : তারকা কুস্তিগির সুশীল কুমারের সঙ্গে অপরাধ জগতের যোগাযোগের বিষয়টি বছর চারেক আগেই পুলিশের নজরে এসেছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশ সূত্রে এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

ছত্রশাল স্টেডিয়ামে সাগর ধনখড় নামে এক তরুণ কুস্তিগিরের খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সুশীল। এরপরই তাঁর সঙ্গে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকার বহু দুষ্কৃতীর সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ আপাতত তা নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করছে। এ প্রসঙ্গে উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের এক আধিকারিকের দাবি, দিল্লি বা উত্তর প্রদেশের পুলিশ সুশীলের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল। সুশীল টোলের ব্যবসায় আসার পর এর সূত্রপাত। সুশীল বুঝেছিলেন, অপরাধ জগতের সাহায্য ছাড়া তিনি এই ব্যবসা চালাতে পারবেন না।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, এরপরই প্রথমে সুশীলের পরিচয় হয় কুখ্যাত গ্যাংস্টার সুন্দর ভাট্টির ভাইপো অনিলের সঙ্গে। ২০১৭ সালে নয়ডায় বিজেপি নেতা শিব কুমার খুনের ঘটনায় তিন টোলকর্মী গ্রেপ্তার হয়। অনিলের নির্দেশেই ওই খুন হয় হবে পুলিশের দাবি। সেসময় সুশীলের সঙ্গে অনিলের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত হলেও কোনও প্রমাণ মেলেনি। টোলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ডাকাতি ও খুনের মতো অভিযোগ ওঠায় সুশীল এই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। তবে তার আগেই বিকাশ লাগারপুরিয়া ও মনজিৎ মহলের মতো দুষ্কৃতী এবং তাদের মাধ্যমে গ্যাংস্টার কালা জাঠেদি ও নীরজ বাভানার সঙ্গে সুশীলের ওঠাবসা শুরু হয়।

অন্যদিকে, সুশীলের অস্ত্রের লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে দিল্লি পুলিশ। এই বিষয়ে তাঁরে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে নোটিশে। ২০১২ সালে ওই লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল। তবে সুশীলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর অস্ত্র লাইসেন্স সাসপেন্ড করতে পুলিশ এতদিন সময় কেন নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাগর খুনের মামলায় আপাতত পুলিশ হেপাজতে আছেন সুশীল।