সংক্রামিতদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে পরিষেবা সুস্মিতার

185

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : বাড়ির দুই মেয়ে এবং তাঁদের বাবা-মা করোনা সংক্রামিত। বড় মেয়ে এবং বাবা শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। বাড়িতে আইসোলেশনে ছোট মেয়ে এবং মা। চিকিৎসকরা বলেছেন, মায়ের এইচআর সিটি স্ক্যান করানো খুবই প্রয়োজন। কীভাবে, কোথায় নিয়ে গেলে মায়ের সিটি স্ক্যান করা যাবে, দিশেহারা ছোট মেয়ে পরিবারটির অসহায় অবস্থার কথা শোনা মাত্রই পিপিই পরে সুস্মিতা হাজির ওই বাড়িতে। শারীরিক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে থাকা পালস অক্সিমিটারটি মহিলার আঙুলে গুঁজে দেন সুস্মিতা। অক্সিমিটারে পালসবিট তখন ১২০ এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দেখাচ্ছে ৮০। মিনিট ২০ মহিলাকে শুইয়ে রেখে ও পরিচর্যা করার পর যখন পুনরায় অক্সিমিটার তাঁর আঙুলে লাগানো হল, তখন রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪। পালসবিটও অনেকটাই স্বাভাবিক। আরও খানিকটা সুস্থ হলে সেই মহিলার সিটি স্ক্যান করানোরও ব্যবস্থা করে দিলেন সুস্মিতা।

জলপাইগুড়ি শহরের পিলখানায় বাড়ি সুস্মিতা সরকারের। মাত্র বছর বাইশের এই তরুণী বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে নার্সিংয়ের ট্রেনিং নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্রই কয়েদিন আগে। তারপর গত ২০ দিনে ১০০ জনের বেশি করোনা সংক্রামিতদের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়েছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে সুস্মিতার এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শহরবাসী।

- Advertisement -

২০১৬ সালে মাধ্যমিক পাশ করার পরেই একটি বেসরকারি নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন সুস্মিতা। গত এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ কলকাতায় ফেরেন তিনি। সেখানে একটি বাড়িতে চারজন করোনা সংক্রামিতের দেখভাল করেন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কাজ করেন। এরপর চলতি মাসের ২ তারিখ জলপাইগুড়ি ফিরে ফের হোম আইসোলেশনে থাকা শহরের করোনা সংক্রামিতদের পরিষেবা দেওয়ার কাজে নেমে পড়েন সুস্মিতা।

কখনও একাই ছুটছেন সংক্রামিতের বাড়ি। আবার কখনও শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে করোনা সংক্রামিতদের বাড়িতে গিয়ে পরিষেবা দিচ্ছেন। সংক্রামিতদের বাড়িতে গিয়ে অক্সিজেন দেওয়া থেকে শুরু করে স্যালাইন, ইনজেকশন, ক্যাথিটার লাগানোর মতো সমস্ত কাজই নিজের হাতে সামলাচ্ছেন সুস্মিতা। পরিস্থিতি বুঝে আবার কখনো-কখনো নিজেই সংক্রামিতকে পৌঁছে দিচ্ছেন কোভিড হাসপাতালে।

সুস্মিতা বলেন, যা শিখেছি, তা এই পরিস্থিতিতে মানুষের কাজে লাগছে। এর থেকে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? তবে মানুষ এখনও সচেতন হননি। অনেকেই বুঝতে পারছেন না, করোনা কতটা ভয়ানক। সকলকে বলতে চাই, এখনও সময় আছে। দয়া করে সকলেই মাস্ক পরুন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রামিতদের পরিষেবা দেওয়ার মতো এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কতটা পাশে রয়েছে সুস্মিতার পরিবার? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, বাড়ির সকলে পাশে থেকে প্রতি মুহূর্তে উৎসাহ না দিলে এই কাজ করা অসম্ভব।  সুস্মিতার এই কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তাঁর নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের স্যর শান্তনু শর্মা। তিনি বলেন, সুস্মিতা এত কম বয়সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে করোনা সংক্রামিতদের বাড়িতে গিয়ে সেবা শুশ্রূষা করছে, তা সত্যি প্রশংসার যোগ্য। সুস্মিতা আমাদের সকলের গর্ব। আমি সব সময় এই কাজে ওর পাশে রয়েছি।