সাসপেন্ডেড ৮ এমপি সংসদ চত্বরে রাতভর ধর্নায়, মঙ্গলবার সকালে ডেপুটি স্পিকারের চা প্রত্যাখ্যান করলেন

742

নয়াদিল্লি: সংসদের ‘মর্যাদা লঙ্ঘনের দোষে’ সোমবার সকালে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ আট জন সাংসদকে রাজ্যসভা থেকে এক সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করেছিলেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। সোমবার বিকেলের পরে সেই সাসপেনশনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। সাসপেন্ডেড এমপিরা চলতি অধিবেশনের বাকি অংশে আর যোগ দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়। রাজ্যসভার চলতি সেশনের বাকি পর্ব থেকে ওই ৮ সাংসদকে বহিষ্কৃত করা হয়। তার পরে সাসপেন্ডেড এমপিরা সংসদ চত্বরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসেন।

সাসপেন্ডেড এমপিরা জানান, অনির্দিষ্টকাল প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। সোমবার রাতভর তাঁরা সংসদ চত্বরে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালেও ওঠেননি। এদিকে মঙ্গলবার সকালে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ আট এমপিকে চা খাওয়াতে চান। কিন্তু তাঁরা সেই চা খাননি। তাঁদের বক্তব্য ডেপুটি স্পিকার চা অফার করে কূটনৈতিক চাল দিতে চাইছেন। হরিবংশকে বলা হয় কৃষকবিরোধী।

- Advertisement -

সোমবার বালিশ, কম্বল, দু’টি ফ্যান এবং মশা তাড়ানোর ধুপ নিয়ে আট এমপি সংসদ চত্বরে কাপড় বিছিয়ে ধর্নায় বসেন। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েনের দাবি, বিরোধী এমপিরা অনেকে বাড়ি থেকে তাঁদের জন্য খাবার পাঠাচ্ছেন। প্রতিবাদীদের মধ্যে দু’জনের বয়স ৬৫-র বেশি। তাঁরা হলেন রিপুন বরেন ও এলামারান করিম। তাঁরা ডায়াবেটিসের রোগী। যেখানে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে একটি অ্যাম্বুলেন্স।

সাসপেন্ডেড এমপিদের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, সমাজবাদী পার্টির জয়া বচ্চন এবং কংগ্রেস নেতা আহমদ পটেল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা দেখা করে সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং আট এমপির সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা ধর্নায় বসেন।

উল্লেখ্য, লোকসভার পরে রবিবার রাজ্যসভায় কৃষি ক্ষেত্রের দু’টি বিল নিয়ে বিতর্কে প্রায় সব বিরোধী দলই দাবি তুলেছিল, এই বিলগুলি সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। কিন্তু ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে ফেলা মোদী সরকার চলতি অধিবেশনেই বিল পাশ করাতে অনড় মনোভাব নেয়। বিল পাশ হওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ভোটাভুটির দাবি তোলেন। স্লোগান, হইহট্টগোলের মধ্যে কে বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলছেন, কে ‘না’ বলছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ বিলের পক্ষেই সায় রয়েছে জানিয়ে ধ্বনিভোটে বিল পাশ করাচ্ছেন দেখে শুরু হয় গন্ডগোল।

সিলেক্ট কমিটিতে বিল পাঠানোর দাবি, বিল পাশে আপত্তি সত্ত্বেও ধ্বনি ভোটে বিল পাশ করানো হয়। মার্শালদের টপকে সচিবালয়ের কর্মীদের টেবিলে উঠে পড়েন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, কংগ্রেসের রাজীব সতাভ। মার্শালরা তাঁদের পাঁজাকোলা করে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলে আরেক প্রস্থ ধস্তাধস্তি হয়। বিল পাশের পরে রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে মোদী সরকারের আধ ডজন মন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধীদের আচরণের নিন্দা করেছেন।

সোমবার সকালে অধিবেশনের শুরুতেই ডেপুটি চেয়ারম্যানের সঙ্গে অভব্যতা বিষয়টি উঠলে বেঙ্কাইয়া নায়ডু সাফ জানান, সাংসদের এমন ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের আত্মসমীক্ষা করা উচিত। এ কারণেই আগামী এক সপ্তাহের জন্য ডেরেক ছাড়াও সঞ্জয় সিং, রাজু সাতাব, কে কে রাগেশ, রিপুন বোরা, দোলা সেন, সৈয়দ নাজির হুসেন ও এলামারান করিমকে সাসপেন্ড করেন সংসদ চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তৃণমূল ওই সিদ্ধান্তকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা’ বলে বর্ণনা করেছে।

বেঙ্কাইয়া নায়ডু বলেন, “আইন মতেই ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা যাবে না। রবিবার ওয়েলে নেমে ডেপুটি চেয়ারম্যানকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে নিজের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটা রাজ্যসভার জন্য খুবই খারাপ দিন। আমি সাংসদের বলছি, আপনারা আত্মসমীক্ষা করুন।” এদিকে এদিন বিকেল নাগাদ রাজ্যসভার তরফে জানানো হয়, রাজ্যসভার চলতি সেশনের বাকি পর্ব থেকে ওই ৮ সাংসদকে বহিষ্কৃত করা হল।