রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি, ২৪ মার্চঃ সন্ধ্যা হলেই বিহার এবং ঝাড়খণ্ড নম্বরের গাড়ির আনাগোনা বাড়ছে শিলিগুড়ি শহরে। দার্জিলিং মোড় হয়ে কোনো গাড়ি ঢুকছে শহরে, আবার কোনো গাড়ি সরাসরি চম্পাসারিমুখী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে চলে যাচ্ছে শালুগাড়া বাজারের দিকে। গাড়িগুলির গন্তব্য শহরের কিছু নামি-অনামি হোটেল। গাড়ি থেকে নেমে পুরুষ, মহিলারা ঢুকে পড়ছেন হোটেলগুলিতে। সেখানেই রাত্রিযাপন থেকে শুরু করে মদের আসর, ডান্সিং, সিংগিং সবকিছুই চলছে রাতভর। যে সমস্ত পুরুষ, মহিলা শহরে এসে একসঙ্গে রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা স্বামী-স্ত্রী যে হবেনই, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাতে কী, সবাই তো ফিটিং। রাজনীতি থেকে প্রশাসন সব মহলকে কনফিডেন্সে নিয়ে এই কারবার চলছে। এটাই বর্তমান শিলিগুড়ির চালচিত্র। বিষযটি নিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা বলেছেন, বিহার, ঝাড়খণ্ড নম্বরের প্রচুর গাড়ি প্রতিদিনই শহরে যাতাযায়া করে। তবে হোটেলগুলিতে এমন কোনো ব্যবসা হচ্ছে বলে জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হবে।

শিলিগুড়ি শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কয়েকশো হোটেল। মাল্লাগুড়ি, প্রধাননগর থেকে শুরু করে হিলকার্ট রোড, সেবক রোড জুড়ে থাকা হোটেলের অনেকগুলিতেই বারবার অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছে। এর আগেও অবৈধভাবে হোটেলে নাচ-গানের আসর বসানো, সেখানে নাবালক, নাবালিকা এবং কলেজ পড়ুয়াদের অবাধ যাতায়াত,ডান্সিং বারের আড়ালে টাকা ওড়ানো এবং জুয়ার ঠেক বসানোর অভিযোগও উঠেছিল। বারবার প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। যার ফলে পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ এবং শাসকদলের নেতাদের হাতে রেখে এখনও শহরজুড়ে হোটেলগুলিতে অবৈধ কারবার চলছে।

সূত্রের খবর, বিহারে মদ পুরোপুরি বেআইনি হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ির হোটেলগুলিতে সেই রাজ্যের লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়। সম্প্রতি বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে শিলিগুড়িতে ফুর্তি করতে আসার সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সবচেযে বেশি ভিড় হচ্ছে শনিবার রাতে। রবিবার ছুটির দিন থাকায় শনিবার রাতকেই ফুর্তির জন্য বেছে নিচ্ছে বিহারের ব্যবসায়ী এবং বড়ো মাফিযাদের একাংশ। শিলিগুড়ি মহকুমা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার বিহার সীমান্ত দিয়ে প্রতি শনিবার বিকেলের পর থেকে গাড়ি করে সেখানকার বিত্তশালী লোকজন শিলিগুড়িতে আসছেন। শহরে শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনের চারপাশে ছড়িযে থাকা একাধিক হোটেল, মাল্লাগুড়ি, সেবক রোড এবং শালুগাড়ার একাধিক হোটেলে শনিবার রাতভর আমোদপ্রমোদের ব্যবস্থা থাকছে। বিহার থেকে আসা ওই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মহিলারাও আসছেন। হোটেলে ঢুকে ওই মহিলাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়া নিচ্ছেন। হোটেলে রাত কাটানোর পাশাপাশি সেখানে মদ এবং নাচ-গানের আসরের ব্যবস্থাও থাকছে।