কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন শুভেন্দু

229

বর্ধমান: কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছেন। এদিনই পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অনুষ্ঠিত বিজেপির জনসভা থেকে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘করোনা অতিমারির জন্য মোদি সরকার বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী এক বছর ধরে সমস্ত ভারতবাসীকে টিকা দেওয়ার কথাও বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে।’

শুভেন্দু জনসভায় উপস্থিত মানুষের জ্ঞাতার্থে আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে এইমস-এর মতো হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সমস্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন আধুনিক পর্বের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বাজেটে বলা হয়েছে। এছাড়াও ডোমো থেকে ডানকুনি পর্যন্ত ফ্রেড করিডোরের কথাও বাজেটে বলা হয়েছে।’ শুভেন্দু দাবি করেন, ’৭৫-এর বেশি বয়সি নাগরিকদের ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করতে হবে না বলে বাজেটে যা ঘোষণা করা হয়েছে সেটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছরে দেশের সিনিয়র সিটিজেনদের এই বিশেষ উপহার দিয়েছে মোদি সরকার।’

- Advertisement -

বাজেটের প্রসঙ্গ সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেসকেও বেনজির ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূলকে লকডাউনে চালচুরি, আমপানে ত্রিপল চুরি করতে দেখা গিয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, টিকাও চুরি করছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যে টিকা এসেছিল তার থেকে ১৫টি টিকা ঝেড়ে নিয়েছে তৃণমূল কোম্পানির লোকেরা। তার মধ্যে রয়েছে দুই বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন বিধায়ক।’

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘কালনা, কাটোয়া, পূর্বস্থলী এলাকা হল শস্যভাণ্ডার। সেই কারণে বিজেপি ‘কৃষক সুরক্ষা যাত্রা’ এখান থেকে শুরু করেছে।’ শুভেন্দু কালনার সভামঞ্চ থেকে জেলার চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পশ্চিম বাংলার চাষিরা বাদে সবাই তিন বছরে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনায় ২০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছে। রবিবার অমিত শাহজি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুধুমাত্র সংখ্যা পাঠিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকারের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু মোদিজি বলে দিয়েছেন, ‘না’-এই ভাবে টাকা দেওয়া যাবে না। কাটমানি খেতে দেওয়া হবে না। সরাসরি কৃষকদের অ্যাকউন্টে টাকা পাঠানো হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

শুভেন্দু এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে এবছরের ৬ হাজার টাকা সহ তিন বছরের পোরো টাকাটা তৃণমূল কোম্পানি থেকে আদায় করে ছাড়ব।’ একই সঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘কেন্দ্রের সরকার এবছর ধানের দাম কুইন্টাল প্রতি ১৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু এই দাম চাষিরা পান না। এগারোশো, বারোশো টাকা কুইন্টাল দরে ‘ফড়েরা’ ও ’দালালরা’ চাষিদের ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আর মাণ্ডিতে মার্কেটিং রেটে বিক্রি করে গেলে কুইন্টালে ১৫-২০ কেজির দাম চাষিদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হয়।’ চালকল মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে কৃষকদের বঞ্চনা করা হচ্ছে। এমনটা গোটা ভারতবর্ষের কোথাও হয় না বলে দাবি শুভেন্দুর। ডিজেল চালিত পাম্প মেশিনের জন্য ‘ভ্যাট’ আদায় এবং ইলেকট্রিক কানেকশন কৃষকদের যে পাম্প চলে তার দরুন ইলেকট্রিক রিডিং কোথাও দিতে হয় না। শুধুমাত্র বাংলাতেই দিতে হয় বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।

কালনার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খালিস্তানিদের মদত দেওয়ার অভিযোগ আনেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের সরকার যখন দেশকে শক্তিশালী করতে চাইছে তখন এই রাজ্যের সরকার দেশকে দুর্বল করতে চাইছে। লালকেল্লা থেকে ‘খালিস্তান জিন্দাবাদ’ বলছে।’ শুভেন্দুর দাবি, ‘খালিস্তানি মদতপুষ্ট আন্দোলনকে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানাচ্ছেন।’ রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড নিয়েও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিধানসভা ভোটের জন্য ‘স্বাস্থ্য সাথী’ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের চাপে তিন মাস রোগীদের এখন নার্সিংহোমগুলি ফেরাবে না। সিপিএম নেতাদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ভোটে নমিনেশন জমা দিতে পারেননি, পঞ্চায়েত ভোটে লড়তে পারেননি। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় না এলে অবাধ পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে না।’ পঞ্চায়েত ভোটে লাড়ার জন্য এবারের ভোটে বাংলায় বিজেপিকে জেতানোর জন্য বামেদের আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী।

কালনার জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়। তিনি দাবি করেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। সরকার পরিবর্তন করার ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চারবার দেখেছি। একই উচ্ছ্বাস ২০২১ সালেও দেখছি।’ এবারও মানুষের উচ্ছ্বাসও যে সরকার পরিবর্তন করার উচ্ছ্বাস, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বলে মন্তব্য মুকুলের।